Skip to main content

Full text of "Pratiddhani, Ed.1st"

See other formats


সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 


ধ্ব 


এ সস সস 
৩. 94/০২, 
রি /105 4 ১৫৯২ 
55 (118/২%. 
১৫০ 2 56,৮০১ 
ম্ ২4৪২৩: 


সস & 


পিউ 





মন 
সাপ 


ীসগনেট প্রেস কলকাতা ২০ 


হীন্দরা ও সুশীলকমার দের 


করকমলে-_ 


প্রথম সংস্করণ 

ফাল্গুন ১৩৬১ 
প্রকাশক 

ধদলশপকুমার গত 
শসশগানেট প্রেস 

১০। ২ এলাগন রোভ 
কলকাতা ২০ 

প্রচ্ছদ'পট 

সত্যাজৎ রায় 

মুদ্রক 

প্রভাতচন্দ্র রায় 
আীগোরাঙ্গ প্রেস লিঃ 

&ে শচন্তামাঁণ দাস লেন 
প্রচ্ছদ"পট মুদ্রক 

গসেন এন্ড কোম্পাঁন 
৭ । ১ গ্রাযান্ট লেন 
বাঁধয়েছেন 

বাসল্তশ বাইণ্ডং ওয়াক 
৬১৯ । ১ 'মিজরাপুর স্ট্রিট 
সবস্বিত্ব সংরাক্ষত 


দাম আড়াইটাকা 


সূচীপত্র 


প্রদীপ (হউ মেনাই ও 

মাধুরী (জন্‌ মেস্ফীল্ড্‌) 

প্রদোষ (জন মেস্ফীল্‌্ড্‌) 

স্বপ্নপ্রয়াণ (সীগাফ্ভূ সসুন্‌) 
কালতরাী (ঁড-এইচ্‌ লরেন্স) 

উত্তর (সি ফীল) রর 

পুন্রেন্টি (উইালয়ম্‌ শেকসপীয়র) 
ফাল্গুনী (উইলিয়ম্‌ শেক্সৃপীয়র) 
'নত্য সাক্ষী (উহালয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) 
মাতভাষী (উইলিয়ম্‌ শেক্সৃপীয়র) ... 
শবনিময় ডউইলিয়ম শেক্সৃপাীয়র) 
শাঁন্তানকেতন উইিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) 
দ্দীর্দনের বন্ধ উইলিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) 
সান্বনা (উইলিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) 
উত্তরাধিকারী (উইিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) 
সৌর ধর্ম উেহীলয়ম্‌ শেক্স্‌পীয়র) ... 
দুগসগয় (উইলিয়ম্‌ শেক-সৃপশীয়র) .. 
নর্বকার (উইলিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) ... 
গুপ্ত প্রেম (উইলিয়ম্‌ শেকসপ্পীয়র) ... 
পূরবী (উইিয়ম শেকসপীয়র) 
আবনাশ (উইিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) 
প্রাণবায় (উইলিয়ম্‌ শেকস্পীয়র) 
আনবার্য (উইলিয়ম্‌ শেক্সৃপীয়র) 
কালযান্রা (উহীলিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র) 
আতদৈব উইলিয়ম্‌ শেকস্‌পীয়র) 
কামরূপ (উইলয়মূ শেক্সপীয়র) 
মূন্ময়ী (উইীলিয়ম শেকসৃপীয়র) 


১৫ 
১৮ 
১৯ 
২০ 
২১ 
৫ 
২৩ 
২৪ 
২৫ 
২৬ 
২৭ 
৮ 
২৯ 
৩০ 
৩১ 
৩. 
৩৩ 
৩৪ 
৩৫ 
৩৬ 
৩৭ 
৩৮ 
৩৯ 
৪০ 
৪১ 
৪. 
৪৩ 


জ্ঞানপাপী (উইালয়ম্‌ শেক্সৃপীয়র) ... 
মৃত্যুঞ্জয় উহীলয়ম্‌ শেকসপীয়র) 
জয়ন্তী (হান্স্‌ কারোসা) ... 

গোধাল হোইনৃরিখ্‌ হাইনে) 

তত্তকথা হোইন্রিখ্‌ হাইনে) 

মন্ত্রগ্াপ্ত হহাইনাঁরখ্‌ হাইনে) 

অধঃপাত (হাইনৃরিখ্‌ হাইনে) 

মায়ার খেলা (হাইন্রিখ্‌ হাইনে) 
আঁবশবাসী (হাইনৃরিখ্‌ হাইনে) 

পাঁরবাদ (হাইনাীরখ্‌ হাইনে) 

প্রত্যাবর্তন হহোইনারখ্‌ হাইনে) 
আত্মপাঁরচয় (হাইনাীরখ্‌ হাইনে) 

রোমল্থ হোইনৃরিখ্‌ হাইনে) 

বর শেষ (হাইনাীরখ্‌ হাইনে) 

সূর্যাস্ত হোইনাঁরখ্‌ হাইনে) 

স্মাতাবষ (হাইনাীরখ্‌ হাইনে) 

মহাকাব্য (হাইনারখ্‌ হাইনে) 

প্রমারা হাইনারখ্‌ হাইনে) 

প্রায়শ্চিত্ত (হাইনাঁরখ্‌ হাইনে) র 
বদায় য়োহান্‌ ভোল্‌ফ্‌গাংগ্‌ ফন্‌ গ্যেটে) 
সুরাত্রি (য়োহান্‌ ভোল্‌ফ্‌গাংগ্‌ ফন্‌ গ্যেটে) 
আ'দনাগ (পোল ভলোর) 

বাতায়ন (স্তেফান্‌ মালামে”) 

উজ্জীবন (্তেফান মালার্মে) 

উৎকণ্ঠা (স্তেফান মালারে”) 

নীলিমা (স্তেফান্‌ মালামে”) 
সমূদ্রসমীর (স্তেফান্‌ 'মালামে) রর 
ফনের দবাস্বপ্ন (স্তেফান মালার্ে) ... 
মূল কাবিতার প্রথম পংন্ত ও নাম 


88 
৪% 
৪৯ 
৪ 
৬ 
৫৭ 
৫৮ 
৫৯ 
৬০ 
৬১ 
৬৯ 
৬৩ 
৬৪ 
৬৫ 
৬৬ 
৬৬ 
৬৮' 
৭০0 
৭১ 
৭৭২ 
৭৩ 
৭৭ 
৮৯ 
৯১১ 
৭৯ 
৯৩ 
৯৫ 
৯৬ 


৯০৯ 


৯১০৫ 


ভূমিকা 


আমার মতে কাব্য যেহেতু ভীন্ত ও উপলাব্ধর অদ্বৈত, তাই আম এও 
মানতে বাধ্য যে তার রূপান্তর অসম্ভব; এবং ইংরেজীর ব্যাকরণ- 
স্বাচ্ছন্দ্য, গুণবাচক শব্দের প্রাতি ফরাসীর মোহ, অথবা জার্মানের অন্বয়, 
তথা সমাসবাহল/, যাঁদচ বাংলাতে একেবারে দুর্লভ নয়, তবু ওই 
ভাষাত্রয় আর বঙ্গবাণীর মধ্যে আকাশ-পাতালের প্রভেদ বিদ্যমান। 
অন্ততঃপক্ষে ভুন্তভোগীরা জানেন যে পাশ্চান্তের কোনও কোনও সদর্থক 
বন্তব্য যেমন আমাদের বোধগম্য হয় নোতির সাহায্যে, তেমনই আমরা এমন 
অনেক কথা প্রত্যহ ব্যবহার কার যা পশ্চিমে বাগাড়ম্বরের পরাকাচ্ঠা; 
এবং সেই জন্যে, “ম্যাকবেথটএর জনৈক সাম্প্রীতিক অনুবাদকের মতো, 
আম বলতে পারি না যে পরবতাঁ পদ্যরচনা শবাঁবধ াবদেশী কাঁবতার 
আক্ষরিক তজর্মা তো বটেই, এমনাঁক ছন্দের দিক থেকেও যথাযথ 
অনুকরণ। অনুরূপ চেষ্টা আসলে অনর্থের বিড়ম্বনা; এবং ভাব ও 
ভাষার আবচ্ছেদ্য সমীকরণই যে কাবর একমাত্র কর্তব্য, এ-সত্যে পেশছতে 
আমার অর্ধেক জীবন কেটে গেলেও, অপরাক্ষিত আত্মীব*বাসের প্রথম 
যুগেই আমি বুঝোছলুম যে বঙ্গানুবাদ যখন বাঙালীদেরই পাঠ্য, তখন 
তার বিচারে বঙ্গঈয় আদর্শের বাধ-নিষেধ অকাট্য। অর্থাৎ বাংলা 
অনুবাদের ছন্দে ইংরেজী পণ্পার্বকের একান্তর ঝোঁক উপ্পাস্থত কিনা, 
তা আপাতত ববেচ্য নয় : আমাদের কানে ভালো না লাগলে, তার বোঁচন্রয 
নিতান্ত অসার্থক; এবং চিন্রকল্পের বেলাতেও মাছ-মারা কেরানী 

রসাভাস ঘটায়, অভনম্ট আবেগ জাগিয়ে, দর্শকের সাধুবাদ পায় না। 
পক্ষান্তরে বাংলা জীবন্ত ভাষা; এবং সেই জন্যে, গ্রামে জন্মেও, 
শুধু সংস্কৃত কেন, আরবী, ফারসী, হিন্দী, উদর, পর্তগীজ, ফরাসী, 
ইংরেজ প্রভৃতির কাছে নিঃসত্কোচে হাত পেতে, সে আজ নগরেও অজ্প- 
বিস্তর লব্ধপ্রাত্ঠ। সৃতরাং তাকে ভাবনার নূতন প্রণালী শেখানো 
অপেক্ষাকৃত সহজ; এবং তার ব্যঞ্জনা বাড়ানোর অন্যতম উপায় অনুবাদ । 
অবশ্য জ্রয়ং ববীন্দ্রনাথ সাহিত্যে ধর্মনিরূপণে একদা যৎপরে!নাস্ত 
হঠোকন্ত করোছলেন; এবং বাংলার পাঁরপাকশান্ত কতখাঁন, সে-ীবষয়ে 
নির;ক্তির সাহস আর যার থাক, আমার নেই । কিন্তু এ-সিদ্ধান্তে বোধহয় 
৯১ 


অনেকে সায় দেবেন যে যীশুর জীবন লখতে এখন যেমন অন্াঁদত 
পাঁরবর্তে জল্মাম্টমীর ব্যবহার; এবং তার পরে এমন একটা সাধারণ নিয়ম 
হয়তো গ্রাহ্য যে ভাবচ্ছাবর তারতম্যেও আভপ্রায় যেখানে বদলায় না, 
সেখানেই পাঁরাঁচিত, বা সার্বভৌম, প্রতীক প্রয়োজ্য, অন্যত্র নয়। কারণ, 
শোচনীয় শোনালেও, না মেনে উপায় নেই যে আধুঁনক বাংলা সাহিত্যের 
যাঁরা প্রকৃত উৎসাহনী, তাঁদের চিন্তায় পশ্চিমের প্রভাব প্রাচ্যের চেয়ে 
বেশী; এবং কেবল তাঁরা নন, এদেশের জনগণ সুদ্ধ পাশ্চান্ত্য লোক- 
যাল্লার একাধক উপসর্গে উপদ্রুত। ফলত সাম্প্রাতিক বাঙালশ লেখকের 
পক্ষে তজর্মা আর মুল রচনার সমস্যা সমান; এবং 'যাঁন চাঁর্তচর্বণে 
সন্তুষ্ট নন, আপন মনের কথা মাতৃভাষায় ফাটয়ে তুলতে বদ্ধপাঁরকর, 
[তিনি যে-উপায়ে আত্মপ্রকাশের চাহদা মেটান, অনুবাদের সাফল্য তারই 
ইতর-বশেষ। 

অর্থাৎ অনুভূতি ও আভব্যন্তির অনৈক্য এ-ক্ষেল্রেও পণ্ড শ্রমের সাক্ষ্য; 
এবং স্বরাঁচত কাঁবিতায় হীন্দ্রিয়প্রত্যক্ষের যে-স্থান, কাঁবতার অনুবাদে সে- 
আসন আপাতত মলের প্রাপ্য। অবশ্য বাহাব্শিব আর অন্তর্লোকের 
মধ্যে কার্কারণের সম্বন্ধ স্থূল ব্াদ্ধরই আঁবচ্কার; এবং কাকতালীয় 
ন্যায়ে এক বার আস্থা হারালে, শুধু এই পর্যন্তি স্বীকার্য যে উভয় 
জগৎ সমান্তরালবতর্ঁ। +কল্তু একট ভাবলে, 'নিঃসংশয় জড়বাদীও 
অগত্যা মানবেন যে সাহত্যসৃম্টি নর্বাচনসাপেক্ষ ; এবং কাব্যে হয়তো 
নঙ্কার্ধত আভজ্ঞতারও প্রবেশ নাষ্ধ : দেশকালগত উপলাব্ধ 
অবচেতনে তলালে, মানসে যে-আলোড়ন শুরু হয়, রসাতআ্মক বাক্য বুঝ 
বা তারই শেষ। অনুবাদের বেলা সংবেদনার পরোক্ষ প্রাতাক্ুয়া নামে 
আদ্য অনুভবের ভূমিকায়; এবং পরে যা ঘটে, তার সঙ্গে কবিতারচনার 
একমান্র পার্থক্য এই যে এখানে আঁদভুতের বিষয়ে মতান্তরের অবকাশ 
অল্প । তাহলেও এমন সার্থক লেখা 'বরল যার আভপ্রায় যুগে যুগে 
বদলায় না, অথবা যাতে পাঠকাঁবশেষের ব্যাপক বোধশান্তি প্রশ্রয় পায় না; 
এবং সেই জন্যে একই কবিতার একাধিক তজণ্মা যেমন স্বভাবাসদ্ধ, 
তৈমনই একই অনুবাদকের চোখে তা খচর দন এক রকম দেখায় না। 
অন্ততঃপক্ষে পরবতর্ঁ অনুবাদসমূহের বর্তমান সংস্করণে প্রথম খসড়ার 
৯০ 


এক বর্ণও অবশিম্ট নেই; এবং বারংবার পাঁরবর্তনের পরেও কোনওটা 
মূলের 'ন্রসীমানাতে পেশছতে পারোন বটে, তবু এগুলো যে-মহাকাঁবদের 
প্রাতিধবান, তাঁদের সঙ্গে আম নিরলতর সংশোধনের ফলেই একলব্যের 
সম্পর্ক পাতিয়েছি। 

উদাহরণত উল্লেখযোগ্য শেক্সপীয়র থেকে অনাদত সনেটগুচ্ছ ; 
এবং একই কথা হাইনে-র সম্বন্ধেও সত্য । বিশ-বাইশ বছর আগে যখন 
এ“দের প্রাতি প্রথম মন দিই, তখন কলম বেশ দ্রুত চললেও, ইংরেজশী বা 
জার্মান দশ অক্ষরে আঠারো অক্ষরের বাংলা লাইন ভরানো এত শল্ত 
লেগোছল যে কেবল পাদপূরণের গরজে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সাধু 
রূপ গ্রহণ ও বর্জন, তথা আরও অনেক স্ীবধাবাদন প্রকরণ, এাঁড়য়ে যেতে 
পারান; এবং তৎসত্তেও যেখানে মান্রাগণনায় কম পড়েছিল, সেখানে 
অগত্যা যে-পুনর্ন্তি বা বিশেষণবাহুল্যের শরণ নিয়োছলুম, তাতে ওই 
কাঁবষুগলের মাতগত প্রকাশ পায়ান, ফুটে উঠোছল তদানীন্তন বাংলা 
কাব্যের মদ্রাদোষ। অবশ্য বর্তমান অনুবাদেও পূর্ব সূরীদের স্বাক্ষর 
অস্পম্ট; এবং এই আসাদ্ধর দায় আমারই নয়, প্রাগুক্ত ভাষাতয়ের 
অনুচকীর্ধা বাংলার ধর্ম-বিরুদ্ধও বটে। তথাচ কুড়ি বৎসরে গ্রল্থভূন্ত 
পদকর্তাদের বিষয়ে আম যে-আভজ্ঞতা জাঁময়োছ, তা হয়তো এখানে 
অপেক্ষাকৃত সপ্রকট; এবং সেই জন্যে, পরবতরঁ পদ্য আমার লেখা 
হিসাবেই বিচার্য জেনেও, প্রত্যেক রচনার নিচে আদকাবর নাম আর 
বইয়ের শেষে মূলের আদ্য পখান্ত 'লাপবদ্ধ করোছ। তাঁলকা থেকে বাদ 
গিয়েছে শুধু তিনাঁট কাঁবতা; এবং যে-পুস্তক-তিনখানায় হউ মেনাই, 
সীগৃাঁফ্রড্‌ সসুন্‌ ও হান্স কারোসা-র লেখা-কাঁট প্রথম দেখোছলুম, 
সেগ্াঁল যেহেতৃ দ্বিতীয় বার হাতে আসোনি, তাই উপাঁস্থত সংস্করণে 
মূলের চিহ্মা্ আছে কিনা সন্দেহ । 

সত্য বলতে ক, যখন াবদেশন কাঁবতার অনুবাদ আরম্ভ কার, তখন 
আমার মনে কোনও মতের বালাই ছিল না, কম্ণপ্রবর্তনা পেয়েছিলুম 
সামায়ক ভালো লাগা থেকে; এবং সে-মৌল সারল্য যে-পর্য্ত ফ:রয়ানি, 
সে-পযন্তি যাঁদও সংশোধনের প্রয়োজন বাাঁঝন, তবু সংস্কারকার্য 
এঁগয়েছে ছন্দের শোঁথল্য, শব্দের অপপ্রয়োগ, বাক্যের জড়তা, চিন্রকল্পের 
অসঙ্গাঁত ইত্যাদ মীমাংসানরপেক্ষ ুঁট-বিচ্যুতির প্রাতাবধানে। এ-দক 


১৯ 


দিয়ে দেখলেও, পরবতাঁ রচনাবলী আমারই দোষ-গ্‌ণের নিদর্শন; এবং 
এমন ভাবা ভুল যে উদ্‌ভাবনাশাস্তর অভাববশতই আম এই পরকাীয় 
লেখাগলোর পিছনে এত সময় কাটাতে পেরোছ। কারণ উত্ত পারশ্রম 
আসলে অপচয় নয়; এবং অনুবাদে বৌশিন্ট্যের অবকাশ যতই থাক না 
কেন, তার সুপারামত সীমা যেহেতু স্বেচ্ছাচারের পাঁরপল্থখী, তাই তার 
চর্চা স্বায়ভ্তশাসনের নামান্তর। অন্ততঃপক্ষে আমাকে অনুবাদ পরাক্ষা- 
নরাক্ষার যে-সুযোগ দিয়েছে, নিজের বন্তব্যে তার অর্ধেকও মেলোন; 
এবং সেই জন্যে যে-উদ্যমের প্রস্তাবনা নিছক ভালো লাগায়, তার 
পাঁরণাত দুরূহের দারুণ আকর্ষণে । পক্ষান্তরে অন্য কোনও ব্রমাবকাশের 
ইতিবৃত্ত এ-বইয়ে নেই; এবং রকম রকম লেখার তজমায় রীতির এক্য 
তো অরমক্ষণীয় বটেই, উপরন্তু, 'বাভন্ন কালে অনাঁদত বলে, একই 
কাঁবর একাধক কাঁবতার বৈষম্যও অগপ্রাতিকার্য। তবে অনুবাদক সবন্নই 
আঁদ্বতীয়; এবং এর ফলে বৈচিত্রের অনট্টন আনবার্ধ জেনেও, কোথাও 
কোথাও কথ্য ও 'শিম্ট ভাষার সাঁন্ধ ঘাঁটয়োছ ভেকবদলের বৃথা চেম্টায়। 


কলকাতা ॥ ১১ জুলাই ১৯৫৪ 


ইংরেজী 


প্রদীপ 


বনবীথ জনশন্য নিশীথে ; 
শাঙকত শিখা বক্ষোদীপে; 
সুদূরের বাঁশ ডাকে আঁভসারে; 
পছনে কে চলে পা টিপে টিপে) 
পথের দু পাশে ভূতের জটলা 
স্মাত-বিস্মাতি উজাড় করে; 
চন্রার্পতি পুরাণকাহিনী 
নক্ষত্রের ঘুণাক্ষরে; 

চক্রী পবনে গ্‌ঢ় কানাকানি, 
প্রাতবাদে জাগে প্রাতিধৰনি; 
বনস্পাতির নিবিদ রটায় 
অবোধ হৃদয়ে কী আগমনী; 
অনাঁদ কালের চির রহস্য 
ত্স্নূ শরীরে বেপথু হানে; 
সৃজননেমীর ঘূর্ণাবর্ত 
ভাম্মাণেরে কেন্দ্রে টানে; 
ব*্বাঁপতার হাতে হাত রেখে, 
দোলা ছেড়ে ওঠে, টলমল পদে 
ক্লান্তবলয়ে টহল দতে 
স্তম্ভিত কভূ হয় না সে তবু, 
যাঁদও পলক পড়ে না চোখে; 
শুধু আনন্দবেদনার সাড়া 
পায় মাঝে মাঝে মানসলোকে ॥ 


নিশীথে বিজন বনবশীথ যবে, 
শাঙকত শিখা বক্ষোদীপে, 


১৫ 


নিরুদ্দেশের যাত্রী তখন 
আপনার ছবি নরখে নীপে) 
প্রথম প্রাণের পরম প্রণবে 
সার্থক তার মর্মবাণী টু 
আভসারকার নুপুরে সে-সুর, 
সে-তালে দোদুল অরণ্যানি; 
আঁশ্নিগর্ভ গুল্মে আবার 
পুরাণপদরূষ আবিভূতি; 
কাণ্ডে কান্ডে ধরা পড়ে যূপ 
আত্মবালর মন্ত্র-পৃতি; 
যুগান্তরের সাণণত খেদ 
নাবেদন করে মোন তারে; 
মৃত্যুদণ্ডে নতাঁশর যীশন 
তারই আগ্রম কপটাচারে ; 
দর্শক আর দৃশ্যের দ্বিধা 

ঘুচে যায় তার সঙ্গোপনে) 
থাকে না প্রভেদ শ্রুতিতে শ্রোতাতে, 
প্রবর্তকে ও প্রবতনে ; 

প্রেমেও যেহেতু নিজ্কাম, তাই 
নার্বকার সে দুঃখে, সুখে: 
আত্মীয়-পর সরূপ যমজ, 
শক্ষপাতের আপদ চুকে; 

নৈশ পাখীর স্বগত কৃজনে 
পূরে আরব্ধ কাব্যকাঁল: 

জানে সে কোথায় মাধুরী জমায় 
অন্ধকারের অতলে আল; 
চটকের চ্যুতি দেখে সে যেমন, 
তেমনই মুগ্ধ উলকাপাতে; 
ভাস্বর বনবীথকা যখন 
দীপ্রহ্দয়, নিভৃত রাতে ॥ 


দূর থেকে দূরে যায় সে একাকন, 
নিঃস্ব, অথচ পাঁথবীপাতি; 
আদ্বতীয় সে অনুকম্পায়, 
ন্রভৃবনে তার অবাধ গাতি; 

থেকে থেকে তার মাথায় ঝরে; 
সাম্টর চাঁব মুক্ত করে, 

সে আসে যেখানে বন্দী অরূপ 
বক্ষোদীপের আশীর্বাদে ॥ 


-__ হিউ মেনাই 


হু (৮৯) 


৯৭. 


মাধুরী 


শূন্য মাঠে সূ়্োদয়, গিরিশৃঙ্গে সূর্যাস্ত দেখেছি, 
মাধবের সমাগমে অতসাঁর পরাগ মেখেছি; 
প্রত্যক্ষ করোঁছ তৃণ নব জলধারায় উদগত॥ 


ফুলের খেয়াল আর সমুদ্রের ধুপদ শুনেছি; 
পাল-তোলা তরী থেকে তাকিয়েছি কত দূর দেশে; 
কিন্তু সে-সমস্তে নয়, বিধাতার প্রসাদ গুণোছ 
তার বাঁকা 'বম্বাধরে, কণ্তস্বরে, দৃম্টিপাতে, কেশে॥ 
_-জন. মেস্ফীল্‌ড, 


১৮ 


প্রদোষ 


প্রদোষ : বিলীয়মান দূর বনরাজী; 
কানে আসে কাকের কলহ্‌ ; 
শৈলমূলে কুয়াশা ও একাধিক দীপ) 
সর্বেপাঁর একমাত্র গ্রহ; 
চাষীরা ফসল মাড়ে ওই যে-খামারে, 
থেমে গেছে ওখানে গুঞ্জন । 

প্রদোষ : সখার সঙ্গে পারিচিত পথে 


পুনরায় কর বিচরণ 


যারা মৃত, এক কালে "প্রিয় ছিল যারা, 
ভাব সেই বন্ধধদের কথা : 
মৃত আজ সে-স্বন্দর বন্ধুরা, যাঁদও- 
ক্ষণস্থায়ী মৃত্যুর ক্ষমতা; 
তাদের স্ন্দর দাঁন্ট অশুচি ধুলায়, 
একে একে, নিবে গেছে কবে) 
সুন্দরহৃদয় তারা প্রচুর প্রসাদ 
এনোছল আমার শৈশবে ॥ 

_ জন. মেস্ফীল্ড, 


৯০) 


স্বগ্নপ্রয়াণ 


চেয়ে দেখেছিলে আমাকে নিবিড় সুখে, 
াবচ্ছেদে আজ খেদ, ক্ষাত নেই তাই; 
যেখানেই থাকো, সেখানে, দীপ্র মুখে, 
স্বপ্নকে দিও আঁধার শয়নে ঠাঁই ॥ 


ঘুমে বুজে আসে তোমার তরল আঁখি, 
[াববশ রসনা মানে না তথাঁপ মানা; 
ঠীমলনে যে-কাঁট কথা রয়ে গেল বাকী, 
অবাধ হয়েছে বিরহে তাদের হানা ॥ 


ঘুমাও, ঘুমাও, আরামে ঘুমাও তবে, 
আমার আঁশসে তোমার শিয়র পৃত; 
সংবৃত তুম অধুনা যে-গৌরবে, 

আম সে-রহসে নয়ত আঁবর্ভৃত ॥ 


কৃপণ গানের অমৃত সণ্তয়নে 
ব্যস্ত তোমার অন*পম পাঁরচিতি ; 
বাসা বেধোছিলে আজ যে-আঁলঙ্গনে, 


তাতে বার বার ফেরাবে তোমাকে স্মাতি॥ 
_ সীগফ্রিড সসুন, 


২০ 





কালতরণী 


গম্ভীর গারর ভালে ক্ষণ ইন্দ্রধনূর তিলক-_ 
এ-পারে তুমি ও আঁম- ব্যবধান দম্ভোলপ্রহত-_ 
অবরোহন পাদদেশে ছত্রভঙ্গ শ্রামকের দল, 
আসত স্থাণুর মতো, বদ্ধমূল সবুজ গোধূমে ॥ 


আমার ঘাঁনষ্ঠ তুমি, অনাবৃত চরণযুগল-_ 
বিরঞ্জন বাতায়ন মাঝে মাঝে উদ্‌গাঁরণ করে 
উলংগ কাচ্ডের ঘ্রাণ; সে-উগ্র গন্ধের ফাঁকে ফাঁকে 
ভেসে আসে চেতনায় উচ্ছবাসত কেশের সুরাঁভি-_ 
চটুল চপলা খসে আচম্বিতে নভস্তল থেকে ॥ 


হারতাভ শহমবাহে দেখা দেয় মসীকৃষ্ণ তরা, 
সান্মহিত শর্বরীর অগ্রদূত যেন_গাঁত তার 

কোন্‌ নিরুদ্দেশে £- নিরুত্তর 'নার্লপ্ত আকাশে হাঁকে 
বজ নিরন্তর--ভয় নেই, তবু ভয় নেই; আজ 

এই উদ্যত দুর্যোগে, আমার সম্মুখে তুমি, আম 
আছ তোমার পাশেই--দিগম্বর বিদ্যুতের জবালা 
নর্বাপিত পুনরায় চমাঁকত শৃন্যের অগাধে__ 
নাঁস্তসাক্ষী আমাদের দৃন্টাবাঁনময়_ চরাচরে 
অনাত্নীয় আর যা সমস্ত কিছ : মগ্ন কালতরী ॥ 


_-ডি-এইচ. লরেল্স, 


৯১ 


উত্তর 


চাঁদ কী রকম?” শুধালে কেউ, বোলো, 

«“এমনইটি ঠিক, দাঁড়য়ে ছাদের পরে। 

দোখও মুখের দীগ্র সমারোহ, 

“সূর্য কেমন ?৮- প্রশ্ন যাঁদ করে। 

জানতে যে চায় কিসের গুণে যীশু 

প্রাণ পুনরায় জাঁগয়োছিল শবে, 

তার কপাল ও আমার অধর ছঃয়ো 

চুম্বনে সব সহজ, সরল হবে ॥ 

_ঁস-ফীলড্‌-কৃত জালালদ্দীন রুীম-র ইংরেজী অনুবাদ 


৬৫ 


প্রেম্টি 


তোমার সদ্‌গুণে যদি ভ'রে ওঠে আমার কাঁবিতা, 
তবে তার বস্তুনিষ্ঞঠা মেনে নেবে কে আগাম কালে? 
অথচ, ঈশবর সাক্ষী, এ-প্রসঙ্গে যা লাখ, তা বৃথা; 
তোমার বিভূত প্রায় অদৃশ্য এ-চৈত্যের আড়ালে । 
সাম্য কুলাত যাঁদ ও-চোখের সৌন্দর্য-বর্ণনা, 
অথবা কণ৩নসাধ্য হতো যাঁদ তোমার প্রসাদ, 
তাহলে রটাত লোকে এ কেবলই কপোলকল্পনা : 
কে কবে পেয়েছে মর্ত্যে অমৃতের সাক্ষাৎ সংবাদ ? 
সেই বৃদ্ধদের মতো, হুস্বসত্য, দীর্ঘাজহবা যারা; 
কাঁবর উচ্ছ্বাস বলে, কাঁনিজ্ঞেরা তোমারে উড়াবে, 
ভাববে তোমার প্রাপ্য প্রশাস্তর প্রচালত ধারা । 
িন্তু যাঁদ সে-সময়ে থাকে তব পৃন্ত্র উপাস্থত, 
তোমারে দ্বিজত্ব দবে তবে সে ও আমার সঙ্গীত ॥ 
_-উহীলিয়ম. শেক্সূপীয়র 


২৩ 


ফাল্গুনী 


বসন্তাঁদনের সনে কারব কি তোমার তুলনা ? 
তুমি আরও কমনীয়, আরও স্নিগ্ধ, নম্র, সুকুমার : 
কালবৈশাখীতে টুটে মাধবের বিকচ কল্পনা, 
খতুরাজ ক্ষীণপ্রাণ, অপ্রাতিষ্ঠ যৌবরাজ্য তার; 
অলোকের বিলোচন কখনও বা জবলে রুদ্র তাপে, 
কখনও সন্নত বাষ্পে হিরণ্ময় অতিশয় ম্লান; 
প্রাকৃত বিকারে, কিংবা নিয়াতর গুড আভশাপে, 
অসংবৃত অধঃপাতে সুন্দরের অমোঘ প্রস্থান। 
তোমার মাধুরী িন্তু কোনও কালে হবে না নিঃশেষ 
অজর ফাল্গুনী তুমি, অনবদ্য রূপের আশ্রয়; 
মানে না প্রগাঁত তব মরণের প্রগল্ভ নিদেশি, 
অমৃতের আধকারী যেহেতু এ-পখীন্তকীতপয়। 
মান্ষ নিঃশ্বাস নেবে, চোখ মেলে তাকাবে যাবৎ, 
আমার কাব্যের সঙ্গে তুমি রবে জাঁবত তাবৎ॥ 


_উইলিয়ম. শেকসপীয়র 


২৪ 


নিত্য সাক্ষী 


ওরে সর্বভূক কাল, খর্ব কর সিংহের নখর; 

ধরার জঠর ভরা তারই যত সুরূপ সন্তানে; 

উপাড় ব্যাঘ্বের দন্ত, হান তার জিঘাংসা প্রখর; 
আঁচরে মরুক ডুবে রন্তবীজ নিজ রন্তবানে। 

যা তুই, উচ্চল কাল, ইচ্ছামতো ছড়া গে জগতে 
সুসময়, দুঃসময় 'নার্বচার খতুচক্র থেকে; 

মাধুরীর অপমান হয় যাঁদ, হোক পথে পথে, 

আমার বারণ শুধু একটি পাপের আতিরেকে : 
পুরাতন লেখনীতে কোনও দন চাসনে আওকতে 
আমার প্রিয়ার ভাল প্রহরের কুটিল রেখায় ; 

তোর পঙ্কম্তরোত যেন সে পারায় ময়রপঙ্খীতে; 
সৌন্দর্যের সাক্ষ্য বলে, নিত্য যেন প্রাতিষ্ঠা সে পায়। 
না, তোরে সাধ না, কাল; দোৌখ তোর ক্ষমতা কেমন : 
আমার কাঁবতা 'দিবে প্রেয়সীরে অনন্ত যৌবন ॥ 


_উইালিয়ম. শেক্স্পীয়র 


কে 


াতভাষী 


সেই কবিদের মতো ক্ষিপ্র নয় আমার কল্পনা, 
চতুরার অঙ্গরাগে পরাশ্রীর স্বপ্ন যারা দেখে, 
আতমর্তয উপাদানে রচে যারা ডাকের গহনা, 
সোন্দর্ষের প্রাতিযোগে নম্ট করে স্বার্থ একে একে, 
ধূলার ধরায় যারা কোনও কালে নয় বদ্ধমূল, 
পেড়ে আনে জ্যোতিজ্কেরে, মন্থে যারা 'সিম্ধু মাণময়, 
অম্লান যাদের মাল্যে ফাল্গুনের আশুক্রান্ত ফুল, 
বিজড়িত বাহহপ্রান্তে নীলকান্ত বায়ুর বলয়। 
প্রেমে সত্যসন্ধ আমি, অপলাপে ফুরাব না মস, 
মানো মোর নিবেদন_ অন্য কোনও মনুষ্যদীহতা 
আমার প্রিয়ার চেয়ে নয় বটে আধক রৃপসন, 
তথাচ রুঁচিরতর অমরার হৈম দীপান্বিতা । 
প্রবাদাঁবলাসী যারা আতিকথা তাদেরই মানায় : 
আম তো পসারী নই, গুণগানে আমার কি দায় ? 


--উইালয়ম. শেক্সূপীয়র 


৮৬৬৪ 


বিনিময় 


মুবুরে নেহার ছায়া করিব না বার্ধক্যস্বীকার, 
সমান বয়সী রবে যত 'দ". তুমি ও যৌবন; 
হোঁরব কালের 'লাঁপ কিন্তু যবে কপালে তোমার, 
তখন মানব সাধ্য মরণেই জীবনশোধন । 

ঢেকে আছে তোমারে যে-সোন্দর্যের 'দব্য প্রাবরণণ, 
সে আমারই বাসসঙ্জা; বিনিময়ে আমার হুদয় 
যেমন তোমাতে ন্যস্ত, তুমি স্থিত আমাতে তেমনই 
তোমার বার্ধক্য বিনা জরা নেই আমারও নিশ্চয় । 
থেকো সদা সাবধান অতএব আমার মঙ্গলে, 
আঁমও তোমার হিতে আপনারে পালিব নয়ত; 
বিপদে তোমার আত্মা রক্ষা পাবে আমার অতলে, 
সতর্ক ধান্রীর হাতে সমর্পত শিশুদের মতো । 
আমার হূদয় যাঁদ মরে, তবু পেও না প্রয়াস 
দরে নিতে সে-হুদয় যার স্বত্বে আম আবনাশ॥ 


_-উইিয়ম. শেক্স্পীয়র 


১৪০, 


৬৩ ৩ 


বিশ্রব্ধ নিদ্রার লোভে ত্বরা লই আশ্রয় শয়নে, 
শ্রাত অঙ্গ-সমনদয় পথকম্ট পাশারতে চায়; 
কিন্তু চিত্ত আঁচরাৎ বাহরায় 'বদেহ ভ্রমণে, 
শরীরের করম্ম্যুতি মানসের কর্তব্য বাড়ায়। 
দুর্গম তীর্থের পথে নিরন্তর সন্ধানে তোমারে; 
ভারানত নেত্র, তবু নেই তাতে তন্দ্রার আভাস, 
আজল্ম অন্ধের মতো, আনিমেষে তাকাই আঁধারে। 
শুধু সে-বীভৎস অমা একেবারে 'নরালোক নয়, 
জহলে, মাঁণদপসম, তার কেন্দ্রে ছায়ামৃর্তি তব; 
হানে সে-ভাস্বর রুচি নিশীথের 'নাবড় সংশয়, 
রূপ দেয় তমিম্রারে, জরতীরে করে আভনব। 
বা কাটে কায়রেশে, বীত নিশা মনস্তাপে তাই : 
তত দিন শান্ত নাই, যত দিন তোমারে না পাই ॥ 


_-উইলিয়ম শেকসৃপীয়র 


৮ 


দ্ার্দনের বন্ধু 


ভাগ্যের ভ্রুভঙ্গে আর মানুষের ?তিরস্কারে জৰ'লে, 
অপাংন্তেয় আত্মা যবে নির্বাসনে করে পাঁরতাপ : 
যঁদও বাঁধর বাঁধ, তব; শূন্য ভরে উচ্চ রোলে; 
নিজের দরদী নিজে, অদৃন্টেরে দেয় আভশাপ; 
যখন মাৎসর্য জাগে অপরের আতিশষ্য দেখে, 
সমান সৌচ্ঠব যাঁচ, যাঁচ তুল্য বান্ধবমণ্ডলণী; 

যা ছু আজন্ম প্রিয়, সে-সমস্ত দুরে ঠেলে রেখে, 
পরের সুযোগ সাধ, হতে চাই পরবলে বলী; 
সে-ধক্কৃত দুঃসময়ে কিন্তু যাঁদ দুঃস্থ চিন্তা মম 
পায়, বন্ধু, দৈবরুমে, লক্ষ্য-রূপে বারেক তোমায়, 
তবে চিত্ত আচাম্বতে, নিশান্তের ভরদ্বাজ-সম, 
মূন্ময় কুলায় ছেড়ে, স্বর্গদবারে মাঙ্গাঁলক গায়। 
তোমার প্রেমের স্মাতি মাধূর্যের উৎস অফুরান্‌; 
সে-খাঁদ্ধর পাশে তুচ্ছ চক্রবতাঁ রাজার সম্মান ॥ 


_উহীলয়ম, শেক্স্‌পীয়র 


২০৯ 


সান্তনা 


যেমনই বিক্ষিপ্ত চিত্ত মৌন হয় মাধূর্যের ধ্যানে, 
দণ্ডসন্রে তৎক্ষণাৎ ডেকে আনে অতাতের স্মৃতি : 
ফোঁল নব দীর্ঘশ্বাস দলের প্রত্ব উপাখ্যানে; 
নম্ট সময়ের লাগ হাহুতাশ করি যথারীতি; 
যে-অমূল্য সুহ্‌দেরা অন্তর্ঘত অব্যয় বনর্বাণে, 
তাদের উদ্দেশে জমে অশ্রুকণা অনভ্যস্ত চোখে; 
ঘুচে গেছে যে-যাতনা প্রান্তন প্রেমের অবসানে, 
অদৃশ্য যে-অপচয়, কাঁদ সেই সংক্লান্তির শোকে; 
আঁনাদ্্ট আভিযোগ পাড়া দেয় আমারে আবার; 
গণি, জপমালাসম, একে একে যত দৈন্যবোধ ; 
পূর্ব পারতাপ জুড়ে, জের টাঁন দুঃখতালিকার; 
যে-ণ চুকেছে, চাই পুনরায় তার পাঁরশোধ। 
কিন্তু যাঁদ দৈবর্ুমে মনে পড়ে তখন তোমায়, 
তবে, বন্ধু, কম্ট কাটে, সব ক্ষাতি লাভে লয় পায় ॥ 
_উইলিয়ম শেকস্‌পাীয়র 


৩০9 


উত্তরাধিকারী 


তোমার মহার্ঘ বক্ষে বর্তমান তাদের হৃদয়, 
যাদের সাড়া না পেয়ে, মৃত ব'লে হয়েছিল মনে; 
ভস্মীভূত বান্ধবেরা ও-রাজত্বে নিয়েছে আশ্রয় ; 
ওর যুবরাজ প্রেম, পারবৃত "প্রয় পাঁরজনে। 
চেয়েছে আমার কাছে যে-পাবন্র অশ্রুর প্রণামনী 
প্রণয়ের পুরোহত গতাসূর প্রাতীনাধ-রূপে, 
সেই অপহস্তে দান বৃথা নয় জান আজ আমি, 
সমস্ত তর্পণবার সন্নিষিষ্ট ওই পুণ্য কৃপে। 
তুমি সে-উৎকীর্ণ চৈত্য অনঙ্গের বিভূতি যেখানে 
সংরাক্ষত চিরতরে সমহ্দয় বৈজয়ন্তী-সহ; 
অনুপূর্ব দয়িতেরা রেখে গেছে স্বাক্ষর সেখানে; 
সঙ্গত তোমার এঁক্যে যত খণ্ড স্বাথের কলহ । 
তাদের অভীম্ট মৃর্ত নিরন্তর তোমাতে নেহার 
আমার সম্বল তৃঁমি, সর্বস্বের উত্তরাধকারী ॥ 


_-উহীলয়ম শেক্স্পাীয়র 


৩১ 


সৌর ধর্ম 


দেখোছি অনেক বার স্বেচ্ছাচারী বালার্ক বিতরে 
সুবর্ণ চুম্বনে তার শম্পশ্যাম প্রান্তর শিহরে, 
নদীর পান্ডুর জল রসায়নে হৈম হয়ে উঠে; 
আবার মুহৃর্তমধ্যে নীচ মেঘ পায় অনুমাতি 
সে-স্বগী় মুখচ্ছবি আবারতে কলুষকালিতে; 
পশ্চিমের নিরুদ্দেশে দনমাঁণ ধায় গুঢ়গাতি, 
ধরারে বিধবা করে, অপমানে আত্মবলি দিতে । 
মোর ভাগ্যসবিতাও এক দন উষার উদ্যোগে 
সর্বজৎ আশীর্বাদ ঢেলেছিল দীনের মস্তকে; 
কিন্তু দন্ড-দুই মাত্র সে-প্রসাদ এসোছল ভোগে, 
সমস্ত গৌরব আজ লুপ্ত ঘনঘটার স্তবকে। 
তথাঁপ আমার প্রেম অপারগ অবাঁজ্ঞতে তারে : 
কলঙ্ক সূর্যের ধর্ম ক আকাশে, কি মর্তযসংসারে ॥ 
_-উইলিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র 


৩ 


দুঃসময় 


উদার, উদ্দীপ্ত ?দন তুঁমই তো দেবে বলোছলে, 
উত্তরীয়ব্যাতরেকে এনো ছলে রিন্ত পথে ডেকে। 
কুৎীসত দুর্যোগে আজ কেন তবে আমারে ঘোঁরলে, 
জঘন্য জলদজালে কেন রাখো বরাভয় ঢেকে ? 
এখনও, বিদাঁর বাষ্প, কদাচিৎ মুখে চাও বটে, 
ঝঞ্ধাহত ভাল হতে মুছে নাও বাদলের কণা; 
সকলই বাফল তবু : সে-স্নেহের অখ্যাঁতিই রটে, 
যার গুণে ক্ষত সারে, কিন্তু বাড়ে ক্ষতের লাঞ্ছনা । 
তোমার লজ্জায় নেই আমার শোকের প্রাতিকার; 
যাঁদচ সন্তপ্ত তুমি, তৎসত্বেও সর্বস্বান্ত আম : 
ঘাতকের সান্ত্বনায় সহনীয় হয় না সংহার; 
বণ্চিতের মর্মপাড়া জানে শুধু একা অন্তর্যামন। 
তাহলেও ও-প্রেমাশ্রু মুস্তাসম দনর্মূল্য, দুল ভ; 
ওরে পেয়ে ভূলে যাই যত তব অপরাধ, সব॥ 
_উইিয়ম শেক্স্পীয়র 


৩ (৮৯) ৩৩ 


নির্বিকার 


উপলবন্ধুর তটে ধায় যথা চলোর্মি সতত, 
আমাদের পরমায়ু ছুটে তথা সমাপ্তির পানে : 
1দনক্ষণপরম্পরা স্থানপারবর্তনে নিরত, 
ক্রমান্বয় উপক্রম প্রত্যেকেরে অশ্রে টেনে আনে; 
ঘউষার কনকচ্ছটা উষসীরে মুকুটিত করে, 
সে-স্বরাট সমারোহে নিত্য নামে কুটিল আঁধার; 
একদা স্বহস্তে কাল যে-দুললভ এশবর্য বিতরে, 
নিজেই ফিরায়ে নেয় আবার সে-উত্তরাধিকার; 
আঁকে সমান্তর রেখা সুন্দরের উন্নত ললাটে; 
তপস্যার উপলাব্ধি কালান্তরে মারাত্মক ভুল, 
মিলে না এমন মাঠ কাল যার ফসল না কাটে। 
তথাপি তোমার স্তুতি মুদ্রাঙ্কত মোর কাঁবিতায়, 
কালের কবল-মনস্ত দুরাশার কীর্তিস্তম্ভ-প্রায় | 
_উইলিয়ম. শেক্স্পীয়র 


৩৪ 


গুপ্ত প্রেম 


আমার মৃত্যুর দিনে যত ক্ষণ রোষরুক্ষ স্বরে 
রটাবে বিমর্ষ ঘণ্টা, পারহারি ঘৃণ্য নরলোক, 
প্রবিষ্ট হয়েছি আম ঘণ্যতর কীটের কোটরে, 

চাও তো, আমার জন্য তত ক্ষণ কোরো তুমি শোক। 
না, তখন এ-কাবতা দৃম্টপথে দৈবাৎ এলেও, 

এ যে কার হস্তাক্ষর, স্মরণে তা রেখো না, কারণ 
তোমারে এমনই আমি ভালোবাসি ফে বিস্মৃতি শ্রেয়, 
ভাঁবষ্যের সর্বনাশ সাধে যাঁদ ভুতের মারণ। 

আমার নাত মেনো_ মিশে যাব মৃত্তকায় যবে, 
বর্তমান পদাবলী দেখো যাঁদ তুমি সে-সময়, 
তাহলে আমার নাম এমনাঁক জোপো না নীরবে; 
এ-প্রাণের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয় যেন তোমার প্রণয়। 
নচে তোমার খেদে খখজে পাবে আভজ্ঞ সংসার 
বিদ্রুপের যে-সুযোগ, নিমিত্তের ভাগী আমি তার॥ 


_-উইলিয়ম শেক্সূপীয়র 





৩৫ 


পূরবী 


যে-খতু আমার মাঝে দেখো তুমি, তার নাম শীত, 
পীত পন্র-কাতিপয় কাঁপে যবে হিমাহত শাখে, 
যখন বিধবস্ত কুঞ্জে থেমে যায় বিহঙ্গসঙ্গীত, 
মৃর্তিপারগ্রহ ক'রে, সর্বনাশ মুহম্হ হাঁকে। 
সূর্য অস্তাচলে গেলে, যে-দ্বিধার অসুস্থ আভাস, 
রাঙায়ে পশ্চিম, মেশে অচিরাৎ নাঁবড় আঁধারে, 
সে-বষাদে সমাকীর্ণ দেখো আজ মোর চিদাকাশ; 
মরণের সহোদর নাশ জাগে সুষ্্তির দ্বারে। 
আমার হৃদয়কুণ্ডে দেখো যেই বহি শ্রিয়মাণ, 
সে শুধু চিতাবশেষ, কৈশোরের ভস্মান্ত উৎসাহ; 
একদা যে-হবি তারে দিয়েছিল অপর্যাপ্ত প্রাণ, 
তারই আতিশয্যে বাঁঝ আনবার্ধ আজ অন্তর্দাহ | 
এ-দুদঁশা দেখে, কিন্তু দ্রুত বাড়ে তোমার প্রণয় : 
মানুষ তারেই চায়, যারে শীঘ্র ছেড়ে দিতে হয়॥ 
_উইলিয়ম শেক্স্পীয়র 


৩৬ 


আবনাশ 


তথাপি নিশ্চন্ত থাকো : উগ্রচন্ড যমদূত যবে 
আসবে আমারে নিতে, শুনিবে না কারও উপরোধ, 
তখনও এ-কবিতায় মোর স্বত্ব বিদ্যমান রবে, 
এ-স্মৃতিমান্দর দিবে চর কাল তোমারে প্রবোধ। 
এ-দিকে তাকালে পরে, খঃজে পাবে বাণীর নিভৃতে 
আমার তন্মান্র তুমি, করোছি যা উৎসর্গ তোমারে : 
ধাঁলই ধালর প্রাপ্য, তাই শুধু মালবে ধূলিতে; 
আমার একান্ত আত্মা গচ্ছত তোমার আধকারে। 
যাবে যা মৃত্যুর গ্রাসে, নিতান্তই সে তো মলময়, 
উীচ্ছন্ট জঞ্জাল, তথা 'ক্রামদের উপজীব্য শব, 
অধমের গুস্ত অস্ত্রে অপৌরুষ তার পরাজয়, 
মনে রাখবার মতো নেই তার 'তিলার্ধ বৈভব। 
আধার অপ্রাতিগ্রাহ্য, আধেয়ই মহার্থয কেবল; 
বর্তমান ছন্দোবন্ধে সে-সম্পদ, জেনো, অবিচল ॥ 
_উইলিয়ম শৈক্সপায়র 


৩৭ 


প্রাণবায়ু 


তোমার সমাঁধালাঁপ আমি লিখে যাই বা না যাই, 
দেখো বা না দেখো তুম ভমগর্ভে আমার বিপাক, 
আমাদের সঙ্গে সঙ্গে এ-স্মৃতির তিরোধান নাই; 
যেটুকু অরক্ষণীয়, একা আম তার অংশভাক। 
এক বার গত হলে, মৃত আম পাঁথবীর কাছে; 
কিন্তু তুমি অতঃপর অমৃতের উত্তরাধিকারী : 
আমার অনন্ত শয্যা অবজ্ঞার আনাচে-কানাচে; 
তোমার অক্ষয় চৈত্য মানুষের চক্ষে বাঁলহারি। 
আমার সম্ভ্রান্ত কাব্যে প্রাতষ্ঠিত কীতিক্তম্ভ তব; 
শাখবে অনুজবৃন্দ জন্মে জন্মে সে-অনুশাসন; 
তোমার বন্দনা-পাঠে মুখাঁরবে জিহবা নব নব, 
যখন একাদিক্রমে রুদ্ধশ্বাস *বাসজীবিগণ। 
তুমি রবে বর্তমান (এ-লেখনী হেন শান্ত ধরে) 
মানুষের মূখে মুখে, প্রাণ যেথা অবাধে সণ্রে॥ 


_-উইলিয়ম শেক্স্পীয়র 


৩৮" 


আনিবা্য 


অন্তিমে অবার্য হলে, হানো ঘৃণা এখনই আমাকে, 
ব্রহমাণ্ডের বৈপরাত্যে যে-সময়ে অকর্মণ্য আম; 
নোয়াও আমার মাথা নৈমিত্তিক দৈবদবার্বপাকে, 
কুড়ায়ো না সর্বনাশে বাকী কানাকাঁড়র প্রণামী। 
এ-হুদয় ম্ীন্ত পাবে বর্তমান শোক থেকে যবে, 
সেদন এসো না ফিরে বতাঁড়ত দুঃখের পশ্চাতে; 
বিলম্বের বিড়ম্বনা ঘটায়ো না ধার্য পরাভবে, 
ঝঞ্চাহত রান্র যেন ফঃরায় না বাঁষ্টমগন প্রাতে। 
যাঁদ ছেড়ে যেতে চাও, পাঁরশেষে যেও না তাহলে, 
পরম্পর উপসর্গে যে-দুর্যোগে আমি উপদ্রূত; 
যাতে ব্যাঝ প্রারম্ভেই নিয়াতর অমোঘ আকৃত। 
তোমার বিয়োগ, জানি, জাগাবে যে-অপার নিবে, 
খেদ বলে গণ্য নয় তার পাশে উপাস্থত খেদ॥ 
_-উইলিয়ম্‌ শেক্স্পীীয়র 


৩৯১ 


কালধযাধা 


অজর আমার কাছে তুমি সদা, সুদর্শন সখা : 
যে-সৌন্দর্যে শুভদীষ্ট হয়ৌোছল আপাতিতন্ময়, 
আজও তা তোমাতে দেখ; অথচ বনম্ত্রী পলাতকা 
ইতিমধ্যে তিন বার, মাধবের মদির স%য় 
গতন বার হৃত শীতে, তিন বার ধাতুর বিকারে 
সুগন্ধী ফালগুনন্রয় পাঁরণত জ্যৈচ্ঠের অগ্গারে : 
এখনও অক্ষ শুধু সদ্যোজাত তোমার সম্মোহ। 
তবু, শঙকুপট্রসম, সুন্দরের ললাটফলকে 
কালের কীলক, হায়, অগোচর চোর্যে ঘর্ণমান; 
হয়তো তোমার কান্তি ক্ষয়ে যায় পলকে পলকে, 
আসান্তর আধক্যেই প্রবণ্িত আমার নয়ান। 
অজাতবার্ধক্য বন্ধু, তাই বালি অতীত প্রত্যুষ 
সে-মৌল মাধূর্য আজ, তুমি যার উত্তরপুরুষ॥ 
_-উইলিয়ম শেক্সূপীয়র 


অতিদৈব 


আমার ভয়ার্ত বুদ্ধি, কিংবা সেই চিন্ময় পুরুষ, 
যার স্বশ্নাবিষ্ট দ্বাম্ট সমা"ত অনাগত কালে, 
জানে না আমার প্রেম কী সত্যের গুণে নিরঙ্কুশ, 
কেন তার পরমায়ু ন্যস্ত নয় ভাগ্যের খেয়ালে। 
রাহুমনন্ত পূর্ণ চন্দ্র প্রত্যাগত অমৃতে আবার); 
দুঃখবাদী গণকেরা উপহাস্য নিজেদের কাছে; 
সংশয়ের নিপাতনে অব্যাহত প্রমার উদ্ধার ; 
যে-শান্ত আরব্ধ আজ, অনন্তের স্ফার্ত তাতে আছে। 
উপস্থিত সম্ধিলগ্ন; সযোগের দিব্য রসায়নে 
পুনরুজ্জনবিত প্রেম; মৃত্যু মোর পদানত দাস। 
নির্বাক নির্বোধ যারা; অভিভূত তারাই মারণে; 
এই আঁকণন কাব্যে অপরাস্ত আম, আবনাশ। 
সে-দনও তোমার স্মৃতি প্রকীর্তিত রবে এ-সঙ্গীতে, 
রাজাদের জয়স্তম্ভ  মশে যাবে যে-দিন ধৃঁলতে॥ 
-উহীলয়ম শেক্স্পীয়র 


৪১ 


কামরূপ 


লজ্জাকর অপচয়ে চেতনার নিজস্ব বিনাশি, 
ফুরায় কামের ক্রিয়া; অথচ সে যাবৎ অক্রিয়, 
তাবং শপথঘ্্রম্ট, মারাত্মক, শোণিতাঁপপাসা, 
বর্বর, আমত, রূঢ, অবিশ্বাসী, কৃর, দৃষণীয়। 
সম্ভোগের চূড়ান্তে সে বিতৃষ্ণার বিষে পরাহত; 
অন্যায় মৃগয়া তার, কিন্তু যেই করে লক্ষ্যভেদ, 
অমনই "ধক্কার জাগে; গলগ্রহ বাঁড়শের মতো, 
অপ্রকাশ আয়োজনে ঘটায় সে ক্ষিপ্তের নিবেদ। 
মত্ত তার অভিসার, মত্ত আধকরণও তেমনই ; 
চাওয়া, পাওয়া অপর্যাপ্ত; ধাওয়াতেও মান্রা মানে না সে; 
আপ্রমাণ সুখাবহ, সপ্রমাণ মৃর্তমান শনি; 
বরাভয়ে অভ্যুদয়, শূন্যগর্ভ স্বপ্ন অস্তাকাশে। 
এ-সবই সকলে জানে; হেন জ্ঞানী নেই তবু ভবে, 
স্বর্গানুসন্ধিংস্‌ পথে নামে না যে বিখ্যাত রৌরবে॥ 
-_-উইলিয়ম্‌ শেক্স্পীয়র 


৪. 


মৃল্ময়ী 


কে বলে সূর্যের সঙ্গে তুলনায় প্রিয়ার নয়ন ? 
প্রবাল রান্তুম হলে, নাতিরন্ত তার ওচ্ঠাধর; 

তুষার ধবল বটে, পাংশবর্ণ কিন্তু তার স্তন); 
কেশের বদলে ধরে মস্তকে সে তন্তুর কেশর। 
স্ফূর্ত যে-কৌশেয় কান্তি শাদা, লাল, বিস্তর গোলাপে, 
কান্তার কপোলতলে দ্যার্নরীক্ষ্য তার প্রাতভাস; 
আমোদের আতিশয্য উদ্বায়ী যে-সরাভিকলাপে, 
তার অন্যতম নয় প্রেয়সীর নিবিড় নিঃ*বাস। 
অবশ্য আমার কানে তার বাক্য 'নত্য রমণীয়, 
তৎসত্বেও বুঝ আমি সমাধক মধুর সঙ্গীত; 
দেবীদের গাঁতাবাধ এ-জনীবনে দোখাঁন যাঁদও, 

সে, মাটি মাড়িয়ে, চলে, জান তবু এ-কথা 'নিশ্চিত। 
অথচ ঈশ্বর সাক্ষী, যারা তার মিথ্যা উপমান, 

সে শ্রেয় তাদের চেয়ে, মান্রাজ্ঞানে আমার প্রমাণ ॥ 


_উইলিয়ম শেক্স্পীয়র 


৪৩ 


জ্ঞানপাপী 


প্রয়ার শপথকারে শুনি যবে সত্য তার প্রাণ, 
তখন সে-অপলাপ মেনে নিই আম জ্ঞাতসারে, 
আমার অপাঁরণাঁতি পায় যাতে পরোক্ষ প্রমাণ, 

সে বোঝে অপটু আমি সংসারের ক্‌ট অনাচারে। 
গত যে আমার দিন, জানি, তার আঁবদিত নয়; 
তবু চাই যেহেতু সে যূবা বলে ভাবুক আমাকে, 
সরল বশ্বাসে তাই দই তার মিথ্যার প্রশ্রয়, 
এবং সহজ সত্য উভয়ত সংগোঁপিত থাকে। 
কিন্তু কেন প্রিয়তমা আঁবচার করে না স্বীকার? 
কেন আমি চেপে রাখি আতিক্লান্ত আমার যৌবন ? 
প্রেম কি প্রকৃতপক্ষে সাধনীয় আস্থার 'বকার ? 
বয়স্থের ভালোবাসা ভালোবাসে না কি বর্ধাপন ? 
অতএব দুজনেই স্তোকবাক্যে মাজ ও মজাই, 
লুকাতে নিজের দোষ মুক্ত কণ্ঠে তার গুণ গাই ॥ 


_-উইলিয়ম শেক্স্পীয়র 


৪88 


মতত্যু্জয় 


হা,রে আকণন আত্মা, পাতকের পার্থব নিভর, 
রাজদ্রোহী প্রধানেরা তোরে কেন চক্রান্তে ধাঁধায় ? 
সর্বস্বান্ত অন্তঃপুরে শীর্ণ তুই, তথা 'দগম্বর, 
দুর্মূল্য রঙ্গাতিরেক বাহরঙ্গে কেন শোভা পায়? 
যে-ভগ্ন প্রাসাদে তোর বসবাস নিতান্ত অস্থায়ী, 
এতাদ্‌শ অপ্রব্যয় কেন তার সংস্কারসাধনে ? 
বাহুল্যের দায়ভাগে থাকে যাঁদ কিছু অনাদায়ী, 
তবে তা বর্তাবে কীটেদেহান্ত কি এরই সম্পাদনে ? 
ভূত্যের সম্বলে তোর প্রাণযান্রা বরণ চলুক; 
অতঃপর তার হাসে পুম্ট হোক তোর উপচয়; 
মিটুক মর্মের ক্ষুধা; ঘনঘটা অশ্রুতে গলুক; 
কালের উদ্বৃত্ত বেচে, কর তুই নিত্যানন্দক্রয়। 
মতর্যজীবী মৃত্যু তোর উপজীব্য হবে তাহলেই; 
এবং মৃত্যুর মৃত্যু যে ঘটাবে, তার মৃত্যু নেই॥ 
_উইলিয়ম শেক্স্‌্পীয়র 


৪৫ 


জয়ন্তী 


1কশবের শিখরাগ্রে, কণ্টকিত তুষারশয়নে, 

জীবনের পাঁরবর্তে পেল যারা অনন্ত বিশ্রাম, 
তাদের সমাধচৈত্য এসো রাচ প্রস্তরচয়নে, 

এসো 'লাঁখ কীর্তিস্তম্ভে সে-অখ্যাত জনতার নাম। 
করোন আক্ষেপ তারা, তাকায়নি পূর্বে বা পশ্চাতে, 
চাহোনি 1তলার্ধ ক্ষান্তি, মেনৌছল আজ্ঞা নিরুস্তরে; 
নাবশেষ প্রাণ তারা বিসাঁজজল ল:স্তির বিবরে॥ 


দিশাহারা আঁখ আজ : এ-ধবংসের শেষ কোথা, কবে? 
অন্ধকার ভাবতব্যে থেকো, বন্ধু, সদা সাবধান । 

যাঁদ দেখো মুমূর্ষরে, বোলো তারে কানে কানে তবে 
আন্তিম ?হংসায় যেন কাড়ে না সে মৃত্যুর সম্মান; 
বোলো শ্রদ্ধাসহকারে সে মোদের সবারই অগ্রণন, 
বিস্মৃতির নিরুদ্দেশে আমরাও তার অনচর। 
অনন্তর জ্ানপারে বুনে রেখে শবপ্রাবরণনী, 

তুমিও পদাঙ্কে তার অকাতরে হয়ো অগ্রসর ॥ 


[কিন্তু যাঁদ ভাগ্যগুণে নরমেধ দেয় অব্যাহতি, 
বাস্তুতে ফিরেও, তবু হারায়ো না আরামে চেতনা; 
ণবধাতা, তোমারে ডেকে, পান যেন তখনই প্রর্ণীতি, 
বাহমমূহূর্তের প্রাতি অনীহা বা হেলা দেখায়ো না। 
ভুলো না তোমার পথ দীর্ঘ সমতলেও বন্ধুর, 
আনিশ্চিত পরমায়, সিদ্ধি নেই কোনও সাধনায়, 
উৎসব অভাবনীয়, অবকাশে উৎকণ্ঠা 'িষ্ভুর, 
সতর্ক তোমার নিদ্রা শৈলচারী হাঁরণের প্রায় ॥ 


৪ (৮৯) ৪৯১ 


সত্যের নিরহংকারে তোমার অন্তর হোক শুঁচি : 
মিথ্যার চক্রান্তে আজ বিশ্বময় মনুষ্য পাগল, 
বণ হিরণ্যগভ? নাস্তির অর্গল গেছে ঘি, 
রাক্ষসের অত্যাচারে প্দনর্বার আর্ত ভূমণ্ডল। 
মোদের শ্রান্তিরে ঘিরে, দুলক্ষণ চমচটী-সম, 
চক্রবতাঁ নৈরাশ্যের নিরাকৃত, 'নত্য প্রদাক্ষণ; 
অজ, অনপত্য, অস্থ, দুঃশাসন, দুর্মর, 'নর্মম, 
*মশানের অধিষ্ঠাতা, শকুনি-সে পতন্রাবহীীন। 

তাই কি শিশুর মর্মে আজ আর পারে না পাঁশতে 
পরম্পরাগত শ্র2ুীত, সার্বভৌম সুভাষতাবলী; 
তীর্থঘে তীর্থে দ্রোণকাক, ধূর্ত লোভ শাণত দৃঁ্টিতে, 
উজাড় অনাথ বেদী, লুটে ভোগ, মজায় অঞ্জলি ? 
গত ব্ীঝ শুভ লগ্ন; অনর্থক ষোড়শো্পচার ; 
জীর্ণ দেউলের চূড়া ভেঙে পড়ে আঁশ্রতের পরে; 
লঙ্কাকাণ্ডে অবাঁসত সেতুবন্ধ, উদ্বেল পাথার, 
অভেদ্য অলাতচক্র; স্তব-স্তুতি শূন্যে কেদে মরে। 
নির্বাঁসত মানবাত্মা, ব্রভুবনে নেই তার স্থান; 
শৈবালিত গুহাদ্বার, অন্তর্যামী নিজনে নিহত; 
মানস তুষারাবৃত, জড়ীভূত মৎস্যের সমান 

অসাড় উৎকাঙ্ক্ষা, আশা চৈতন্যের তৃহিনে পাহত॥৷ 


কিল্তু, বন্ধু, কোনও কালে ফিরে যেতে পেলে নিজ বাসে, 
প্রত্যাশারে মুস্ত রেখো হতাশার অবসাদ থেকে ; 

বাঁক্ষিপ্ত হয় না চিত্ত যেন স্বার্থস্বপ্নের বিলাসে; 

দিও বর্তমান হানি নিজ্কলঙ্ক বস্মরণে ঢেকে। 

সংকল্পিত শৃঙ্খলায় আপনারে ঘিরো অহরহ; 

হৃদয়ে হোমের আঁশ্ন জেবলো িশ্বদেবের উদ্দেশে; 
কোরো তার পাঁরক্রমা তিন বার অন্তত প্রত্যহ ; 

তার পরে, ইচ্ছা হলে, প্রেয়সীরে বেধো কণ্ঠাশ্লেষে॥ 


&০ 


ধন্য সে, কালের ব্যাপ্তি তপোবলে লাঁঙ্ঘতে যে পারে; 
আনম্টের প্রমুখাৎ নয়ত সে ইম্টমন্তল শোনে; 
পারায় সে মন্বন্তর অজানার রুদ্র আভসারে) 

বিতরে সে আপ্ত সুধা সংসারের দুঃস্থ কোণে কোণে। 
পৃথবীর শিতা ওই জন্মমতত্যুব্যাতিক্রান্ত রাঁব, 

ওর জ্যোতি, ওর তেজ আমাদের গভীরে বিরাজে; 
[বগত স্নেহের স্মাতি, উপাস্থত করুণার ছাঁৰ 

ফুটে ওঠে নিরন্তর অনুপূর্ব মুহূর্তের মাঝে। 
তারায় তারায় কাঁপে আমাদের চিরন্তন প্রাণ, 

সপ্ত সম্ধু বিচগ্ল সে-প্রাণের প্রচ্ছন্ন পরশে, 
সে-প্রাণের উপাদানে নাতি স্বয়ং ভগবান, 

তারই গুঢ় আভপ্রায় পারণামী সৃম্টির হরষে॥ 


চিরসুন্দরের দূত, নামো তবে গারশহ্গ হতে, 
প্রবস্তার প্রেতাত্বা ও মেঘমুগ্ধ শ্যেন পারহারি; 
প্রকাশো প্রেমের দীপ্তি অন্ধতমঃপ্রাবন্ট জগতে; 
আত্মনয়ের প্রতীক্ষায় বরাভয় উঠুক গুঞ্জরি। 
স্থাঁগত সৎকার যার, অসম্ভব তার উজ্জীবন; 
গফরে চাও, ক্ষেমঙ্কর, লগ্ন ভ্রন্ট নয় একেবারে : 
বিশ্বমানবের মার্ত সহত্রধা, ধুলায় শয়ন; 

নৃতন বেদীর মূলে সযতনে উপ্ত করো তারে। 
নহে সে অপাঁরচিত, যে-সত্যের প্রচারক তুমি; 
ইতিপূর্বে বারংবার আঁপ্নদীক্ষা পেয়েছে মানুষ : 
আলো ও ছায়ার দ্বন্দে সমাচ্ছন্ন যে-সীমান্তভূঁম, 
উভয়সঙ্কটে সেথা দাও, দেখা দাও, নিরঙ্কুশ । 
তোমার উদাত্ত মন্ত্র জড়ে শুদ্ধ চৈতন্য জাগায়; 
তোমার দাক্ষণ মুখে স্ফূর্ত হয় অভিব্যন্তিবাদ; 
তোমার আদেশে কারা অকস্মাৎ মোক্ষে মিশে যায়; 
তোমার আশস আনে পরাভবে জয়ের প্রসাদ ॥ 


৫১ 


বেম্টিত যে চিরাচারে, নিমজ্জিত নিশ্চেম্ট পাতালে, 
কুড়ায়ে উচ্ছিষ্ট কণা, কাটে যার অনুবৃত্ত দিন, 
ধরো ওচ্ঠে সুধা-বিষ, হরো ভয়, হোক সে স্বাধীন। 
দাও, তারে শান্ত দাও : বসুধার বদ্ধ মুষ্টি খুলে, 
সে যেন কাঁড়তে পারে জীবনের পরম বৈভব; 
আপন দক্ষিণা নিতে কভু যেন যায় না সে ভুলে; 
রহে না গ্রহণে তার যেন কোনও লোভের সংস্রব। 
পাশার ভাবনা, যেন মুস্ত হস্তে ঢালে সে আহত 
প্রাথামক উপচয় সনাতন: যজ্ঞা্নির পটে; 

থাকে না অব্যন্ত যেন আঁতমর্ত্য আত্মার আকৃতি; 
অমৃতের দানসন্রে নিত্য যেন বিত্ত ভ'রে উঠে॥ 


প্রত্ন পাথকৎ-সম, রেখে যেও উৎকীর্ণ নিদেশ 
অনুগের তরে, বন্ধ, বৃক্ষে, শৈলে, হিমে, বাল.কায়; 
ঘটে যাঁদ অপঘাত, অন্তঃকালে মৈত্রীর সন্দেশ 
লিখো তবে সহচর বহঙ্গের ধবল পাখায়। 
[কিশবের শখরাণ্রে কণ্টকিত তুষারশয়ন, 

হত বীরেদের লাগি এসো সেথা কীর্তিদতম্ভ রোপি) 
মাগোন বিরাতি যারা, 'বনাবাক্যে বরেছে মরণ, 
তাদের মহার্ঘয নাম এসো আজ শুচি মনে জাঁপ॥ 


এখনও শশতের ব্যাপ্তি রুমানর পর্বতে পর্বতে, 

অথচ উন্মুক্ত নভে বসন্তের বিচিত্র আশবাস; 
জরাজজীরত ভূর্জ, কিন্তু চীর্ণ পরতে পরতে 

প্রত্যাগত নবীনের রজতাভ দামনীবিলাস। 

উধাও ঝঞ্জার মুখে বৃন্তচ্যুত পল্লবের মতো, 

জানি না ললাটালপি, আছে কিনা কোথাও স্বাগত, 

বর্তমান সর্বনাশে কিসের অও্কুর ধৈর্য ধরে॥ 

৫২ 


শ্রদ্ধার নক্ষত্রপ:ঞ্জ জেলে যেও তব অন্ধকারে, 
অনাগত উল্মার্গেরা যার পানে চাবে অপলকে, 

যার রশম এক দন, প্রলয়াসম্ধুর পরপারে, 
প্রবৌশবে মানুষের ঘনীভূত হৃদয়গোলকে। 
সে-দ্রান্ত স্পর্শে যাঁদ নাও গলে আত্মার কৈলাস, 
উত্তল দর্পণ থেকে বিচ্ছারবে বর্ণালী তথাপি) 
হয়তো 'মাঁলবে তাতে নব আদিভূতের আভাস, 
লক্ষ্য খজে পাবে ধরা, বহু যুগ নিরুদ্দেশে যাঁপ॥ 


গলিত শবের স্তৃপে ভারাক্রান্ত কিশবের চূড়া, 
দাঁলত বিজয়মাল্য, লৌহমল ভগ্ন তরবারে; 
পুনরায় মিষ্ট লাগে তাহলেও বষাতন্ত সুরা, 
রাখীবন্ধনের [তিথি উপনীত বিশ্লিম্ট সংসারে। 
নিত্য বি*ববাসনার অব্যাহত অনন্প্রাণনায় 
আবার উর্বর বুঝি ধাঁরন্রীর অনন্ত যৌবন; 
নুপুরানকণ জাগে শৃঙ্খলের ক্িস্ট ঝঞ্চনায়; 
অমৃতসন্ধানী আত্মা; আর বার অবার গগন । 
স্বসমুথ কুরুক্ষেত্রে, রন্তবীজসম, আচম্বিতে 
তরুণের মনুস্তিসেনা; বরাভয় ম.দ্রাঙ্কত ধৰজে; 
পুরাতন প্রত্যাদেশ পরিণত অপূর্ব সঙ্গীতে; 
অভেদ সাধ্যে ও সাধে; আর্যসত্য অবতীর্ণ রজে॥ 


_ হান্‌্স্‌ কারোসা 


৫৩ 


গোধূলি 


মাঝি-মাল্লার বৈকালী সভা : 
আকাশ, বাতাস গোধৃঁল মাখে : 
তার পাশে ব'সে, বাহিরে তাকাই, 
যেখানে সিম্ধ অসীমে ডাকে ॥ 


জলে একে একে দিশারণী প্রদীপ, 
আলোকমণ্ অভয়ে ভাসে; 

দূর দগন্তে ববাগী জাহাজ 
এখনও দ্যাম্টগোচরে আসে॥ 


আলোচনা হয় নাবিকজীবন : 
তুফানে কী ক'রে নৌকা ডোবে; 
শূন্যে ও জলে ঘেরা কান্ডারী, 
দবধাটলমল খাশিতে, ক্ষোভে ॥ 


অভাবনীয়ের লীলানকেতন 
আচারে, বিচারে বিপরীত মতি, 
মানবসমাজ সব্যসাচী ॥ 


ম্লোতে প্রাতিভাত লক্ষ মাঁণক, 


মত্ত মলয় বকুলবনে, 
গঙ্গার তরে সোম্য পুরুষ 
সমাধমগ্ন পদ্মাসনে ॥ 


৫৪ 


ল্যাপদেশীয়েরা বামনের জাতি, 
নোংরা, হাঁ বড়, চ্যাপ্টা মাথা, 
আগুন পোহায়, মাছ সে'কে খায়, 
কথা কয় না তো, ঘোর্য় যাঁতা॥ 


যে যা বলে, সে তা কান পেতে শোনে, 

তার পরে মুখ খোলে না আর; 

দেখা যায় না সে-ীববাগী জাহাজ, 

বাহরে গভীর অন্ধকার ॥ 
_হাইন্রিখ্‌ হাইনে 


রঃ 


তত্কথা 


ডঙ্কা 'িটে শঙ্কাবিসর্জন, 
পসারিণীর সুলভ সোহাগ কাড়া, 
সেই তো সকল উপদেশের সার, 
বেদ-বেদান্তে নেই কিছ তার বাড়া॥ 


হাতের সুখে ঢাকের কাঠি নেড়ে, 
পাড়ায় পাড়ায় ঘুম ভাঙিয়ে যাওয়া__ 
গুণী-জ্ঞানী তার বেশী কী করে, 
যথেষ্ট নয় ঢাকের পিছ ধাওয়া 2 


যা বলেছেন শঙ্করাচার্য, তা 
বরণ কম সার্থকতায়, দামে, 
জল্মাবাঁধ ঢাকের মতো বেজে, 
শিখেছি এই সত্য পাঁরণামে ॥ 


_ হাইনারখ্‌ হাইনে 


৬ 


ল্নগনপ্তি 


দীর্ঘ*শবাসে আমরা অনভ্যস্ত, 
চক্ষে সাহারা, প্রচুর হাস্য ওজ্ঠে, 
ভুলেও কখনও হই না শশব্যস্ত, 
বাস্তু যাঁদও কালফণী মাণকোচ্ডে ॥ 


হৃদয়শোণিতে স্নাত সে-মন্গুপ্তি, 
মূক যাতনার অলাতচকে রুদ্ধ; 
প্রহত বুকের মুখাঁরত নিঃসুস্তি 
.করে না 'কন্তু রসনাকে উদ্বুদ্ধ ॥ 


সেই রহস্যে পিহিত জাতিক, শ্রাদ্ধ ; 
শিশ; আর শব জানে তার সারমর্ম; 
তাদের শুধাও, আম যা লুকাতে বাধ্য, 
তার দ্বির্দান্ত ব্ীঝ বা তাদেরই ধর্ম॥ 


_হাইনারখ্‌ হাইনে 


$৭ 


অধঃপাত 


অনাচারে ডোবে নিসর্গস্ন্দরী-_ 
মানবধর্মে নিয়েছে কি সেও দীক্ষা? 
পশু, পাখী, কীট, ফল, ফুল, মঞ্জরা, 
প্রাপ্ত সকলে অপলাপে লোকা শক্ষা ॥ 


বিশ্বাস কার কী করে কুমূদী সতী? 
হাটে হাড় ভেঙে, রসরঙ্গে সে লিপ্ত; 
নটবর নবকার্তক প্রজাপাঁত, 

অবাক সাধৰী চাট চুম্বনে দীপ্ত ॥ 


ভীরু মাধবীও মনে মনে রাঁঙ্গলা; 
রাতপাঁরমলে নেই তার অনায়ীত্ত; 
আপাতত যেন কুমারী লঙ্জাশীলা, 
আসলে সে সাধে মোহনীর প্রাতিপান্ত ॥ 


বুলবুল গলা কাঁপায় যে-পালাগানে, 
নেই তাতে উপলব্ধির নাম-গন্ধ ; 
সন্দেহ হয় বাঁধা গতে মাঁড় টানে 
আঁতিরাঞ্জত কাকুতির নিবন্ধি॥ 


ক্রমে মরে আসে সত্য সর্ব ঘটে, 
শনম্ঠা বা তার দেখা পাওয়া আজ শন্ত। 
কুকুরের ল্যাজ যথারীতি নড়ে বটে, 
কিন্তু জগতে নেই আর প্রভূভন্ত 

_ হাইনরখ্‌ হাইনে 


৮” 


মায়ার খেলা 


বিদ্যুতের' পক্ষপাতী যেহেতু আম, তাই 
ভাবো কি নই কুঁলশে কৃতবিদ্য ? 

ভ্রান্ত বলে, বোঝো না লশলা দেখাই, না দেখাই, 
স্বভাবতই আম অশানাসদ্ধ ॥ 


শুনতে পাবে পরীক্ষার ভয়ঙ্কর দিনে 
আমার রূঢ় কণ্ঠ মেঘমন্ট্রে, 

ন্রাহস্বর বাত্যাহত বৃক্ষে তথা তৃণে, 
প্রাতিধধনি রন্ধ থেকে রন্থধে॥ 


সে-দুর্ষোগে বজ্র মেতে উঠবে তান্ডবে, 
লাগবে যত প্রাসাদে ভূমিকম্প, 
দৈবতের গর্ব হবে খর্ব খান্ডবে, 
অবাধ শত 'শখার উল্লম্ফ ॥ 


_ হাইনারখ্‌ হাইনে 


৫৯৯ 


আবশ্বাসী 


পাব আম আজ তোমাকে আলিঙ্গনে ! 
সুখের উৎস, অবরোধ টুটে, 

বারে বারে তাই বুকে নেচে উঠে; 
তাই বিমোহন স্বপনের রং ধরেছে মনে। 
সত্য পাব কি তোমাকে আলঙ্গনে ? 


পাব আম আজ তোমাকে আলিঙ্গনে! 
শিথিল কবরী সহসা বিরলে 

ভ'রে দিবে মি সোনার ফসলে; 

কাঁধে মাথা তুমি রাখবে অবাধ সমর্পণে। 
সত্য পাব কি তোমাকে আলিঙ্গনে ? 


পাব আমি আজ তোমাকে আলিঙ্গনে ! 
বাস্তবে মিশে যাবে কল্পনা; 
পৃরিবে আমত মনস্কামনা; 

অমরা আসবে নেমে মতে্যর আকর্ষণে । 
সত্য পাব ক তোমাকে আঁলঙ্গনে ? 


বলো বিধি তাকে পাবু কি আলিঙ্গনে! 
ভাগ্যে তখনই 'বিশবাস হবে, 
টমাসের মতো, অঙ্গাঁল যবে 

ইম্ট ক্ষতের রহসে পাঁশবে পরম ক্ষণে । 
মানিব তখন বাঁধা সে আলিঙ্গনে ॥ 


_হাইন্রিখ হাইনে 


৬০ 


পারবাদ 


সাচ্চা কিছুই নেই জগতে; দুষ্ট সবাই দোষে। 

গোলাপ আপন বোঁটায় বোঁটায় তক্ষ: কাঁটা পোবে। 

হয়তো তাঁরাও খাদে ভরা মর্তযবাসীর মতো । 

কিংশুকে, কই, সৌরভি নেই। বৃন্দাবনে তাপ। 

গেরুয়া দিয়ে ঢাকেন সাধু মহাবিদ্যার ছাপ। 

সীতা মাঁদ গোসা ক'রে মার কাছে না যেত, 

পণ্চ সতীর পুণ্য লোকে তবেই সে ঠাঁই পেত। 

শখীর পেখম জবর হলেও, বীভৎস পা তার। 

তার ভাঁণতাও সকল সময় সহ্য হবার নয়। 

কাদম্বরীর বিপুল বহর স্বতই জাগায় ভয়। 

ষণ্ড, স্বয়ং শিবের বাহন, জানে না দেবভাষা । 

বাচস্পাতি শেখেনান তো বয়ে খাসা খাসা। 

বাঙালীদের নাকের আবার নেই কো বাড়াবাঁড়। 

ছন্দ যতই হোক না মধুর, খত থেকে যায় মিলে। 

মৌচাকে, হায়, বিষান্ত হুল । গ্রাম্য বধূর 'পলে। 

ব্যাধের হাতে মারা গেলেন কৃষ্ণ ভগবান। 

তানসেনও, সে কলমা প'ড়ে হলো মুসলমান। 

স্বর্গচারা, দীপ্ত তারা, সার্দ তাকেও ধরে; 

তারও কবর ধূলার ধরায়; ঠান্ডাতে সেও মরে। 

দুগ্ধে মিলে ঘাসের গন্ধ। সূর্যদেবের গায় 

দাগ দেখা যায় শাদা চোখেও, সেই বোঝে, যে চায়। 

কত যে, তার 'হসাব রাখ, কোথায় এমন ছাট ? 

ডাগর চোখে, শুধাও কী দোষ? আছে কি তার শেষ ? 

ওই সমতল বুকের তলায় নেই হৃদয়ের লেশ! _ হাইন্রিখ্‌ হাইনে 
৬১ 


প্রত্যাবর্তন 


মধুমালতটীর কুঞ্জ- চৈত্রসন্ধ্যা-আমরা দু.জনে 
আবার আগের মতো বসে আছি খোলা জানালায়__ 
চাঁদ ওঠে ধীরে ধীরে, স্নাত মর্তয 'স্নগ্ধ সঞ্জীবনে_ 
কেবল আমরা যেন প্রেতচ্ছায়া, গলগ্রহ দায় ॥ 


দ্বাদশ বংসর পূর্বে শেষ বসেোছিলুম উভয়ে 
এখানে যূগলাসনে, এরকম কবোষ্ণ প্রদোষে; 
নবানুরাগের জবালা ইতিমধ্যে নিবেছে হৃদয়ে, 
সম্প্রীতি মন্দাঁগন কাম অনুচিত পারণে, উপোসে॥ 


[নিতান্ত নিঃসাড় আম, তথাচ সে কথার জাহাজ; 
মুখের বিরাম নেই, সঙ্গে সঙ্গে নাড়ে নিরন্তর 

প্রণয়ের চতাভস্ম; বোঝে না সে কোনও মতে আজ 
নর্বাপত বিস্ফুলিঙ্গ পুনরায় হবে না ভাস্বর ॥ 


অফুরন্ত ইতিহাস : কুঁচন্তার বিরুদ্ধে সে নাক 
এত দিন যুদ্ধ করে উপনীত আর্তির চরমে; 
অপ্রাতিষ্ঠ একনিন্ঠা, পাপস্পর্শে নম্ট তার রাখা । 
তাকাই বোবার মতো সে যখন সায় চায় সমে॥ 


অগত্যা পালিয়ে বাঁচি; 'কন্তু মৃত লাগে চন্দ্রালোক ; 
ভূতের কাতার দেখি দু পাশের আঁতক্লান্ত গাছে; 
িরালায় কথা কয় পাঁথবীর পুঞ্জীভূত শোক) 
উধর্য্বাসে ছুটে চলি, তবু সঙ্গ ছাড়ে না পিশাচে॥ 


-_ হাইনারখ হাইনে 


৬২ 


আত্মপাঁরচয় 


মুক্তির সংগ্রামে আম কাঁটিয়োছি তারশ বৎসর; 
ছিল না জয়ের আশা, তবু যুদ্ধে থেকোছি তৎপর; 
ভাঁবাঁন অক্ষত দেহে ঘরে ফিরে যাব পুনরায় ॥ 


অহোরান্র পাহারায় এক বারও ফেলান পলক; 
অসাধ্য লেগেছে নিদ্রা শাবরের সামান্য শয়নে ; 
আনচ্ছায় ঢুূল এলে, তৎক্ষণাৎ ভেঙেছে চমক 
সংসাহসী সঙ্গীদের সমস্বর নাঁসকাগজ্নে ॥ 


মাঝে মাঝে মহানিশা ভ'রে গেছে সান্দ্র অবসাদে, 
হৃদয়ে জেগেছে আর্তি নির্বোধেরই ভয়-ডর নেই- 
অশ্লীল গানের কলি সে-সময়ে ভেএজোঁছি অবাধে; 
পূরেছে 'বাবন্ত মৌন কখনও বা উদ্ধত শিসেই ॥ 


উান্নদ্র সন্দেহ চোখে, শব্দভেদী অবধান কানে, 
সজাগ বন্দুকে উম্মা, কৌতূহলী অজ্জ্ের প্রগাতি 
থাঁময়োছ অরধপথে; দেখিয়োছ অব্যর্থ সন্ধানে 
সূচ্যগ্রপ্রমাণ যত লম্বোদর দাঁম্ভকের মাতি॥ 


কিন্তু সে-র্লীবের দলে হেন শন মিলেছে দৈবাৎ 
সাংঘাতিক লক্ষ্যবেদে যে সব্যসাচীর প্রাতযোগনী; 
না মেনে উপায় নেই--সাক্ষী আছে বহু রন্তপাত, 
অসংখ্য উন্মূদ্র ক্ষতে প্রাতপন্ন আম ভূত্তভোগী॥ 


৬৩ 


অনাথ দূরান্ত দগ্গ; রন্তগঙ্গা আহত প্রহরী; 
বন্ধুরা নিহত, কিংবা অগ্রগামী, নচে বিমুখ) 
মরণেও অপরাস্ত, অবশেষে খাতে ট'লে পাঁড়; 
ভাঙোন আমার অস্ত্র, শুধু জান ফেটে গেছে বুক 


__হাইন্‌রিখ্‌ হাইনে 


রোমল্থ 


গোলাপচারায় ফুল ফুটেছিল সে-ীদন সবে, 
নিশীথে কোকিল ডেকেছিল বার বার, 
চুদ্বনঘন প্রথম সোহাগে সহসা যবে 
করোছলে তুমি আমাকে অঙ্গীকার ॥ 


আজ হেমন্ত পাপাঁড় খসায় গোলাপ থেকে; 
নীরব বেহাগ, কোকিল: নিরুদ্দেশ; 
সঙ্গাঁতহনীন শূন্যে আমাকে একাকী রেখে, 
তুমিও ছেড়েছ মিয়মপ্র প্রাতিবেশ॥ 


হাড়াহম রাত ফুরাতে চায় না, কেবলই বাড়ে; 
পায় না তোমার সাড়া অন্তর্ধামী। 
ভূতের বেগার খাটাতেই স্মৃতি চেপেছে ঘাড়ে: 
সত্যের ফাঁক স্বপ্নে ভরাই আমি॥ 


-_ হাইনারখ. হাইনে 


৬৪ 


বষশেষ 


পীত শাখে ওই ধরেছে কাঁপন, 
ঝরকে ঝরকে পাতা ঝরে; 
শুকায় যা কিছু ললিত, মোহন, 
ধূলার কবরে লুটে পড়ে ॥ 


অটাবাঁশখরে জলে থেকে থেকে 
সাঁবতার শোকাবহ জ্যোতি; 
মনে হয় শেষ চুম্বন রেখে, 

দ্রুত চ'লে যায় খতুপাতি॥ 


অশ্রুফল্গু সহসা আবার 
ভাসে পুরাতন উচ্ছবাসে ; 
এ-ছাঁব নেহার, সেই দিনকার 
বিদায়ের বেলা মনে আসে॥ 


জানতাম আশদ তোমার মরণ, 
যেতে হলো তবু ডাক শুনি; 
তোমার উপমা মুমৃষ+ বন, 
আ'ম পলাতক ফাল্গুনী ॥ 
_হাইন্‌রিখ. হাইনে 


€& (৮১) ৬৫ 


সূর্যাস্ত 


নির্বাণমুখ রবিরে রম্য লাগে; 
তোমার চোখের রুচি ততোধিক যন্য॥ 
রাজীব আঁখর দীপকে, অস্তরাগে, 
আমার হৃদয় শোকে আজ অবসন্ন ॥ 


সন্ধ্যাশোণিমা ঘোষে বিচ্ছেদ নভে, 
পৃথগাত্মার যাতনাজাগর রাত্রি : 
অশ্রুসাগরে আচিরাৎ দ্বিধা হবে 

অন্ধ ভিখারী, সুনয়নীী বরদাত্রী॥ 


-_হাইনারিখ, হাইনে 


স্মাতিবিষ 


পনেরো বছরে পা 'দয়েছ তুমি সবে; 
তাকালে তোমার তরুণ মুখাবয়বে ॥ 


ভালো লেগেছিল আঠারো শ সতেরোতে 
যে-কিশোরীকে, সে হুবহু তোমার জোড়া; 
তোমার মতোই অপরুপ আগ্া-গোড়া ] 


৬৬ 


গেলুম শহরে, বিশববিদ্যালয়ে, 

বললুম, “দেরী হবে না, স্মরণে রেখো ।” 
জবাব দিল সে, “তুম ছাড়া এ-হ্‌দয়ে 
আর কেউ নেই, কেবল তুমিই থেকো ॥” 


বছর-তিনেকে টীকাটিপ্পনীসহ 
নব ফাল্গুনে কে এক বার্তাবহ 
দরদ জানাল, সে পরঘরণী ব'লে॥ 


সে-দিন পহেলা ফাল্গুন : ঘাটে, মাঠে 
মদনসখার 'বাস্মত আভযান; 
বালারুণপ্রাতাবাম্বিত পাখসাটে 

নাচে পতঙ্গ, গায় বিহঞ্গ গান ॥ 


শুধু পেয়োছল আমাকে মুমূর্যাতে ; 
ক্ষয়ে ক্ষয়ে, মিশোছল্‌ম শয়নে আম। 
সয়েছি তখন যে-যাতনা প্রাতি রাতে, 
তা আমি জান ও জানে অন্তর্যামী॥ 


কিন্তু ধরল মরা ডালে ফের শীষ। 
স্বাস্থ্যে ক আমি অক্ষয়বট তবে ? 
তাকালে তোমার তরুণ মুখাবয়বে ॥ 


_ হাইনারিখ, হাইনে 


৬৭ 


মহাকাব্য 


রমণীর বরদেহ, সে যেন কাবতা; 
রচাঁয়তা নিজে ভগবান; 
এশী আভিব্যন্তির প্রমাণ ॥ 


যেমনই প্রশস্ত লগ্ন, তেমনই প্রখর 
প্রাীতভার 'দব্য হূতাশন; 
একান্তিক শিল্পের শাসন ॥ 


সত্যই বিস্ময়কর রমণীর দেহ, 
মহাকাব্য সরস, সার্থক; 

গৌর, তনু অবয়বে বিজাঁড়ত স্নেহ, 
একএকটি স্বর্গ বা স্তবক॥ 


অনাবৃত গ্রীবাভঙ্গে দৈবাঁ ভাবচ্ছবি 
চন্রার্পত নিপুণ আঁচড়ে; 
কেশমনকুটিত শিরে ভ্রৈলোকাপ্রসবী 
পাঁরকল্পনাই ধরা পড়ে ॥ 


উদ্‌ভট শ্লোকের মতো শ্লেষে ও সংক্ষেপে 
সূচীমুখ উরোজের কলি : 

সপ্রকট যাঁতপাত সমবৃত্তে মেপে, 

যমকের সাক্ষ্য গীতাঞ্জাল॥ 


সর্বশ্রেম্ ভাস্করের চূড়ান্ত গৌরব 
স্খনম্য, সমান্তর শ্রোণী; 


৬৮ 


1নাহত নিক্ষেপবন্ধ প্রত্যক্ষ প্রণব, 
আধগম্য রহস্যের খান ॥ 


তাতে নেই অচিন্ত্যের অমৃর্ত আকৃতি; 
আস্থ-মাংসে সে-গাথা সাকার : 

সহাস, চুম্বনসহ অধরে আহৃতি, 
হাতে বর, পায়ে অভিসার ॥ 


ভারতী যোগায় নিত্য প্রাণবায়ু তাকে; 
মন্ম*গধ তার অঙ্গরাগ; 

অন্নপূর্ণা তার ভালে আশীর্বাদ আঁকে : 
কোষে কোষে প্রচুর পরাগ ॥ 


অগত্যা তোমাকে, প্রভূ, জানাই প্রণাম, 
আঁদ্বতীয় আঁদকাব তুমি । 

আমরা শিক্ষার্থীমান্র, সাধ স্বরগ্রাম, 
কংবা আজও বাজাই ঝুমৃঝৃমি ॥ 


আমি হব সে-সঙ্গীত'সিম্ধুর ডুবুর; 
উদয়াস্ত প্রাণান্ত প্রয়াসে 

ক'রে যাব বিদ্যাভ্যাস, মাঁথত মাধুরী 
যত দিন আয়ত্তে না আসে॥ 


উদয়াস্ত অধ্যয়ন নিজেকে সওয়াব ; 
শ্রান্তি চোখে দেবে না নিদুটি; 

প'ড়ে প'ড়ে, অবশেষে পা-জোড়া ক্ষওয়াব; 
তার পরে একেবারে ছুটি ॥ 


_ হাইনারখ, হাইনে 


৬৯ 


প্রমারা 


অসমসাহসে আম বাজি রেখোছলুম একদা 
খেয়ালের প্রমারায় জীবনের দৌনক সঙ্গাঁতি। 
যাঁদও মরায়া খেলা সর্বনাশে সমাপ্ত সম্প্রতি, 
তব অশোভন শোক, আজ নয়, সর্বথা, সর্বদা ॥ 


প্রবচনে প্রোন্ত আছে : ইচ্ছার অসাধ্য কিছু নেই; 
ইচ্ছাময় ভগবান; স্বর্গসুখ পূর্ণ মনোরথে। 
মিটাতে পেরেছি সাধ বাধ-সাধা বাধির জগতে, 
জীবনের নিরাপত্তা দূকৃপাতেও আনান ব'লেই॥ 


যে-তুরীয় আভজ্ঞতা পাঁরবর্তে করেছি সম্ভোগ, 
তা অবশ্য ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু অবচ্ছেদেও অগাধ । 
সূতরাং নিমেষেও 'নার্বক্প সমাধির স্বাদ 
পেয়েছে যে এক বার, সে হিসাব করে না বিয়োগ ॥ 


নিত্যবর্তমান শুধু অদ্বিতীয় আত্মসমাহতি। 
নিরঞ্জন, বিরঞ্জন সে-আলোর উৎসে বা প্রপাতে 
প্রেমের সমস্ত জধালা না জন্ড়াক, বয় এক খাতে; 
তব তা 'নর্বাণ নয়, দেশকাললঙ্ঘনেরই রীতি ॥ 


__হাইনৃরিখ্‌ হাইনে 


৭০ 


প্রায়শ্চিত্ত 


আকাঢ বোকা বলে; 
ভাঁবসনে দেবদূত ভূভারে নাম, 
ক্ষমায় গলে গ'লে॥ 


নম্টাম তোর স্পম্ট বুঝেও, তোকে 
দেখাই বদান্যতা; 

অন্যে হলে, হঠাৎ খুনের ঝোঁকে 
ফুরাত তোর কথা ॥ 


কন্তু আমার পাতকও নয় সোজা, 
শন্ত সাজা তাই; 
অগত্যা তোর ভালোবাসার বোঝা, 


বইছি, বিরাম নাই] 


একত্রে তুই নরক ও কৈবল্য : 
তোর অশুঁচি হাতে 

দৈব দয়ার আঁচন্ত্য সাফল্য 
মলবে ক শেষ রাতে 2 


__ হাইনারখ হাইনে 


৭৯ 


[বদায় 


বাগ্মী চোখে বিদায় নিতে দাও, 
সাধ্য নেই মুখে সে-কথা আনি; 
দুঃসহ এশীবরহবেদনাও, 


পুরুষ ব'লে, তা মান বা না মানি॥ 


সকাল নয়, অকাল উপনীত : 
বর্তমানে শপথও শোচনীয়, 
অধরসুধা নীহারে অবাসত, 
আকণন মুন্ট মোচননয় ॥ 


অথচ ছিল একদা বিস্ময় 
তোমার লঘ., চাঁকত চুম্বনে, 
মাঘের শেষে প্রথম কিশলয় 
লাগায় যেন পুলক পাতা বনে। 


হবে না আর বদল বরমালা, 
মধূপ লালাকমল জাগাবে না। 
হৃদয়ে জমে হেমন্তের হেনা ॥ 
_য়োহান্‌ ভোল্‌ফ্‌গাংগ. ফন. গ্যেটে 


৭৭ 


সুরান্র 


প্রাণপ্রীতমার কুঙ্জকুটীর ছেড়ে, 

নৈশ, নিরালা কান্তারে দিই পাড়; 
অপার ব্যবাঁধ পায়ে পায়ে যায় বেড়ে, 
কিন্তু এখনও রভসে বিবশ নাড়ী ॥ 


বনস্পাঁতির জটায় বন্দী বিধু ; 
দিশার' মলয় আত্মঘোষণা করে; 
বকুলবনের সুরভি এবং সাধু, 
লাস্যলনলায়, ছড়ায় বনান্তরে ॥ 


মধ্মাধবের সুন্দর শর্বরী 

স্নগ্ধ প্রসাদে কী আনব্চনীয় ! 
এ-মহামৌনে অশোভন মাধূকরাণ, 
ভূমা সমাহত চেতনারই রচনীয় ॥ 


শত সহমত এমন রজনী তবু 
মূল্যাহসাবে কেড়ে নিও যথাকালে; 
মাতচ্ছন্ন ক্ষণিকার মায়াজালে॥ 
-য়োহান্‌ ভোল্‌ফ্‌গাংগ. ফন. গ্যেটে 


5৩ 


আঁদনাগ 


সর্পবেশী আম শাখাচর; 
দন্তর্চি ক্ষুধার বদ্যুতে 
প্রভাস্বর আমার অন্তর। 
সণ্টারী সে-মরীয়া ক্ষুধায় 
বীতস্বত্ব নন্দন সংধায়, 
লেলিহান 'দ্বরুক্ত রসনা ।... 
জন্তু আমি, তীক্ষধীঁও বটে; 
কিন্তু নেই হেন বিষ ঘটে 


যাতে ডোবে খাঁষর চেতনা ॥ 


রম্য এই প্রমোদের কাল! 
মর্তযবাসী, সাবধান : আমি 
জৃম্ভণেও প্রবল, ভয়াল; 
আশুতোষ নই, অন্তযনমী। 
নীলমার ক্ষুরধার স্নেহে 
অসংবৃত, ছদ্ম নাগদেহে, 
জীবনের পাশব প্রসাদ । 
আয়, জডভরতের জাতি, 
আয়, হেথা আম ওত পাতি, 
নয়ীতির মতো অগপ্রমাদ ॥ 


সম্য, সূ, হিরণ্ময় হানি, 
মৃত্যু ঢাকা যার চন্দ্রাতপে, 
যার মন্দ্রে স্ফূর্ত কানাকাঁন 
ফুলে ফুলে, পাদপে পাদপে, 
দৃপ্ত তুমি, হে সূর্য, আমার 
৭৭ 


চক্রান্তের আলম্ব; কারণ 
জগৎ যে বশদ্ধ অভাবে 
কলঙ্ক, তা তোমারই প্রভাবে 
অস্বীকার করে মুগ্ধ মন॥ 


মহাদ্যতি, তুমিই জাগাও 
প্রাণবাহন সত্তার বিগ্রহে, 

তথা তার ক্ষেত্র মেপে দাও 
প্রত্যক্ষের স্বপ্নাদ্য আবহে । 
হৃম্ট মরীচিকার প্রণেতা, 

কী সংকল্পে নমগন প্রচেতা, 
চাক্ষুষ তা তোমার রূপকে। 
হে স্বরাট্‌ ছায়ার সম্রাট, 
ভালোবাসি ভরো যে-বিরাট্‌ 
মিথ্যা তুমি শূন্যের কৃপকে॥ 


যথাজাত তোমার উত্তাপে 
আলস্যের তুষার শাথল, 
স্মৃতি প্রাতধ্বানত বিলাপে, 
আম প্রত্র বিপাকে জাঁটল। 
একাকার কায়ার পতন, 
দেখেছিল এ-দব্য কানন; 
'এ-আরাম সে-জন্যেই 'প্রয় : 
ক্রোধ পায় ইন্ধন এখানে, 
কুণ্ডাঁলননী উদ্বুদ্ধ পুরাণে, 
উন্মখর অনিব্নীয় ॥ 


অহংকার, তুমি মৃলাধার, 
চক্রবতরঁ আকাশে আকাশে, 


৭৮ 


'দেশগত জগং-সংসার 
খুলোৌছলে বাণীর বিভাসে। 
নিত্য আত্মদর্শনে বাঁঝ বা 
অপ্রচার্য শ্রষ্টার প্রাতিভা; 
মূস্ত তাই পূর্ণের অর্গলি, 
উপজাত বিধির ব্যত্যয়, 
ছত্রভঙ্গ 1সদ্ধান্তে নিশ্চয়, 
তারাপুঞ্জে কৈবল্য বিকল ॥ 


ব্যোম তার ভ্রান্তির প্রমাণ, 
সর্বনাশ স্বাক্ষরিত কালে, 
আরম্ভেই উলকাপাত- প্রাণ 
ধাবমান ব্যাদত্ত পাতালে। 
কিন্তু আমি প্রথম প্রণবে, 
উপাঁস্থত, অতীত, আগামন; 
আত্মহারা এ*বর্ষের হাস 
কার লুব্ধ আলোকে প্রকাশ; 


[নরাকার মোহনীর স্বামী ॥ 


বর্তমান ঘৃণার আধার, 
ভূতপূর্ব নয়নের মণি, 
প্রেমিকের যোগ্য পুরস্কার 
নরকের অক্ষয় পত্তীন ? 
দেখো মুখ আমার তামরে! 
যে-ছবি সে-গারিষ্ভ গভীরে 
'মুকুরিত, একদা তা দেখে, 
নৈরাশ্যে ও ক্কারে ব্যাকুল, 
অনুরূপ মাটির পূতৃল 
'গড়েছিলে শ্রদ্ধাব্যাতরেকে ॥ 


৭৯ 


পণ্ডশ্রম : মাঁত্তকাসঞ্জাত, 
সাবলীল তোমার সন্তান 
করোছিল স্তবে প্রাতিভাত 

তুমি বটে সর্বশান্তমান; 

কিন্তু সুজ্ঞু ভাস্কর্ষের সেরা, 
প্রত্যাঁদম্ট নবজাতকেরা 
শুনোৌছল বিরামে বিরামে 
আম বাল, “ওরে আগন্তুক, 
শ্বেতকায়, উলঙ্গ, উন্মুখ, 
পশু তোরা, নর শুধু নামে ॥+ 


“তোরা যার সৌসাদৃশ্যদোষে 
আশপ্ত ও আমার ঘৃণিত, 
অপূবেরি ভ্রম্টা যাঁদও সে, 
তবু তার রচনা গাহ্যত। 
সদ্ধহস্ত আমি সংশোধনে ; 
প্রস্তৃত যে আত্মসমপপণে, 
আম তার মরমী সহায়। 
*লথ যত উরঙ্গশাবক 

হয়ে ওঠে উদ্যত তক্ষক 
আমাদের যৌথ প্রচেন্টায় ॥৮ 


অপ্রমেয় আমার মনীষা 
খংজে পায় মানুষের মনে 
প্রতীহংসাপূরণের দিশা 
যা সম্ভব তোমারই সৃজনে। 
রহস্যের দুস্থ অবরোধে, 
নাক্ষত্রক ধপের আমোদে, 
[বম্বাঁপতা যেথা ইচ্ছাময়, 
সেখানেও করে অধিরোহ 


1/0- 


আত্যান্তক আমার সম্মোহ, 
স্পর্শক্লামী বিদ্রোহের ভয় ॥ 


আস, যাই সত্বর, মসৃণ; 
শুচি চিত্তে হই নিরুদ্দেশ । 
কার বক্ষ এমন কঠিন 

রুদ্ধ যাতে চিন্তার প্রবেশ? 
যেই কেন হোক না সে, তার' 
মর্মে আত্মরাতির সণ্চার 
সংঘাঁটত আমারই প্রভাবে । 
স্বার্থে আম প্রাতিষ্ঠিত ব'লে, 
স্বরূপের আবরণ খোলে, 
অনুপের 'বকাশ স্বভাবে ॥ 


ঈভ্‌-ও, দেখোছিলুম একদা, 
ওজ্ঠাধরে অবাক ব্যবধা, 
গোলাপের লাস্যে উচ্ছবসত। 
সুপ্রশস্ত হৈম কাঁটিতট; 
অনবদ্য গৌরবে প্রকট, 
নিঃশঙ্ক সে রোদ্রে ও মানুষে; 
অঙ্গীকৃত বায়ুর আশ্লেষ; 
দেহদ্বারে আত্মার প্রবেশ 
প্রত্যাহত বুদ্ধির প্রত্যুষে ॥ 


আহা, ভূমানন্দের সংহতি, 
মার, মরি, তুই কী সুন্দর! 
সৃমাতির মতো, মহামাত 
তাই তোর সেবায় তৎপর। 


৬ (৮৯) ৮৯ 


ঝাঁপ দেয় প্রেমের আগুনে । 
যে নিষ্পাপ, সে আরও তন্ময়, 
যে কঠোর, সেই অত্যাহত 1... 
আম পাল পিশাচ, প্রমথ, 
তবু তুই গলাল হৃদয় ॥ 


সরীসৃপে পক্ষীর উল্লাস : 
উহ্য আম পাতার আড়ালে; 
ছলনার সূক্ষন নাগপাশ 
বিরাঁচিত হয় বাক্যজালে। 
ইতিমধ্যে রূপমুগ্ধ চোখে 
পান কার, রে বাঁধরা, তোকে) 
আম তোর প্রচ্ছন্ন কাণন্ডারা। 
ব্যক্ত গাঁত গ্রীবার 'বভ্রমে, 
দীপ্র তুই হরণ্ময় রোমে, 
শান্ত, স্বচ্ছ মাধূর্যের ভারী ॥ 


আপাতত অনাতগভাীর, 
ভাব আমি, সৌগন্ধমাঁদর 
তোর মর্ম যার আবিভাবে। 
কমর কায়া কোমল-কঠোর, 
ক্ষণে ক্ষণে আধিক উতলা । 
ভয় নয়, কম্প্র বিপর্যায় 
আঁভব্যাপ্ত তোর মাহমায় : 
পাব তোকে আয়ন্তে, সরলা ॥ 


৮০ 


€যে-নপট অকপট, তাকে 
প্রযত্রের পরাকাচ্ঠা দেয়; 

সে অচ্ছোদ চোখে জেগে থাকে) 
রক্ষা পায় সুন্দরের গেহ 

ত৷র দম্ভে, মাতভ্রমে, সুখে। 
এসো শাখ দুদবের মুখে 
সাধবীদের দুঃসাহস দেওয়া ।__ 
পারদশার সে-কলাকৌশলে, 
পরিচিত আম প্রাতিফলে : 
চত্তজয় সবুরের মেওয়া ॥) 


অতএব দীপ্ত মুখমদে 
বোনা যাক লঘিচ্ঠ শৃঙ্খলা, 
জাড্য ভুলে, অস্পম্ট বিপদে 
স্নিগ্ধ ঈভ্‌ পাতে যেন গলা । 
নীঁলিমায় অভ্যস্ত কেবল, 
উর্ণাজালে পর্যন্ত বিহহল, 
কী শিহর শিকারের ত্বকে! 
কিন্তু নয় অগোচর কট, 
এবং তা নর্ভার, অটুট, 
রচনার রীতিজ কুহকে ॥ 


সোনা-মোড়া কথার মাধুরী, 
লক্ষ লক্ষ মৌনের তক্ষণা, 
িংবদল্তা, উল্লেখ, চাতুরা । 
লাগ তার অপচিকনর্ধায় ; 
তোষামোদে তাকে নিয়ে আয় 
আভপ্রায়ী আমার কবলে : 
স্বর্গচ্যুত নির্ঝরের মতো, 


৮৩ 


নিজেকে সে করুক দুর্গত 
অতটের নীলিম অতলে ॥ 


রোমে, না কি পরাগে, আবৃত, 
কম্বুনিভ, সে-আশ্চর্য কানে 
নিরুপম কী গদ্যে পাহত 
পরমার্থ ঢেলেছি সমানে! 
ভাবিনি সে-চেম্টা অপচয়; 
সর্বগ্রাহী সান্দগ্ধ হৃদয় : 
সাদ্ধ স্থর; শুধু প্রয়োজন, 
মর্মান্বেষী মধুপের মতো, 
[ঘরে রাখা নির্বন্ধে সতত 
কার্ণকা বা স্বর্ণ শ্রবণ ॥ 


ধীরে বলোৌছল.ম, “নশ্চয়ে 
দৈববাণন ন্যুনতম, ঈভ্‌। 
ওই পর ফলের আশয়ে 
বিস্ফারিত বিজ্ঞান সজীব। 
শুনো না সে-প্রাচটনের মানা, 
যার শাপে পাপ দন্তহানা। 
কিন্তু স্বপ্নে মৃণ্ধ, ওচ্ঠাধর, 
তুমি করো যে-রসের ধ্যান, 
আগামীর সেই অভিজ্ঞান 
[বগঁলত অনন্তে উর্বর ॥” 


আবেদনে অদ্ভূত আমার 
বন্তব্য সে পান করেছিল; 
উপোঁক্ষিত দেবদৃত-_-তার 
চক্ষ; বৃক্ষে ঘুরে মরেছিল। 


৮৪ 


আনিষ্টের সণ্টারে গার্ভণী, 
বোঝোনি সে-বিশ্বাসঘাতিনী 
কৌটিল্যে যে জন্তুর প্রধান, 
পর্ণে আমি বমূর্ত সে-স্বর; 
তবু ঈভ্‌ পেতোছল কান॥ 


প্রাতাষদ্ধ হর্ষের বসাঁতি; 

তোর মনে যে-প্রেমের ধুম, 

তা পরম জনিতারই ক্ষতি। 
অপহৃত অমৃতে মধ্য, 

পাড় ফল; ঘোচাতে ব্যাঘাত 

হাত আছে-চাস তো, নে বিধু॥৮ 


মহামোন প্রহত পলকে! 
অর্ধবক্ষে বিটপাীর ছায়া, 
অপরার্ধ, রোদ্রের ঝলকে, 
উধ্বশ্বাস কেশরের মায়া। 
সঙ্গে সঙ্গে আমার উল্লাস 
পেয়েছিল শীৎকারে প্রকাশ; 
হয়েছিল 'বপন্ন পুলকে 
শরীরের কুন্ডলিত কশা,_ 
শশরোমাঁণ পর্যন্ত সহসা 
মগ্ন যেন সমু মাদকে॥ 


৮৫ 


দীর্ঘায়িত অধৈর্য প্রতিভা! 
অবশেষে লগ্ন উপননত : 
ব্ন্ত নব বিজ্ঞানের বিভা; 
নগন পদে গাতি উৎসারত; 
স্বর্ণে নতি; গনঃ*বাস মর্মরে : 
যুগ্ম আলো-ছায়ার নিভে 
চাণ্চল্যের কাম্পত সূচনা; 
টলমল শুন্য কুম্ভ-বং 

উন্মুখ সে; উদ্বায়ী শপথ; 
আপাতত অবাক্‌ রসনা ॥ 


বরদেহে প্রলুব্ধ জিজ্ঞাসা, 
হারিয়ে যা অভীম্ট সম্ভোগে । 
তোর পারবর্তনাঁপপাসা 
ভঙ্গিমার সম্বদ্ধ উদ্যোগে 
ঘিরে যেন রাখে মৃত্যুতরু ৷ 

না এগিয়ে, বাড়া করভোর., 
গোলাপের ভারে মন্দগাতি। 
নৃত্যে তন নাশ্চন্তে সপে দে। 
এখানে যা ঘটে, আনর্বেদে 
অহৈতৃক তার পারণাত॥ 


জেলোছিল কা উন্মত্ত আলো 
অনুর্বর বিলাসের জতু! 
তবু দেখে, লেগোছিল ভালো, 
পৃজ্ভদেশে অবাধ্য বেপথ! 
ইতিমধ্যে স্বগ্নে আলথালু 
বোধদ্রুম, বিলায়ে রসাল 
প্রপণ্থ ও সংহত প্রামতি, 


৮৬ 


বাতাহত 'ির্ভার শরীরে 
জমে যাতে আবার প্রতশীত ॥ 


বৃক্ষশ্রেন্ঠ, গগনদর্পণ, 
মর্মরের দৌর্বল্যে তোমার 
তৃষ্ণা করে রসানুসরণ; 
শূন্যে তুমি ছড়াও যে-জটা, 
অন্তরঙ্গ তাঁমন্্রার ঘটা 
সে-ধাঁধায় মোক্ষ খজে পায়; 
গচরন্তন প্রভাতের নীলে, 
পারাবতে, সৌরভে, আনলে, 
অফরান্‌ প্ররোহের দায় ॥ 


হে গায়ক, খাঁনর অগাধে 
লুক্কায়ত তোমার নিপান, 
যে-ভাবূক ফণাীর প্রসাদে 
ভাবাবম্ট ঈভ্‌, মহাপ্রাণ, 
তুম তার 'হন্দোলা, তোমাকে 
দৃম্টিপাত বাড়াতে, উন্নাত; 
আবামশ্র হিরণ্যে উদ্বাহ) 
পক্ষপাত পাতালের প্রাত॥ 


ণবানার্মিত তোমার বর্ধনে 
অনন্তকে তুমিই হটাও; 

শশর্ষে নীড়, সমাধি চরণে, 
জ্ঞানে আত্মবিলোপ ঘটাও। 


৮৭ 


কিন্তু আম প্রবীণ দাবায়; 
হৈমাকের বিশুজ্ক আভায় 
তোমার এ-শাখা ঘরে থাকি; 
জানি তুম বত্তে ভারাতুর-_ 
বিপর্যায়, হতাশা, মৃত্যুর 
চ্যুত ফল চোখে চোখে রাখি॥ 


সুশ্রী সর্প, দ্যাল ইন্দ্রনীলে, 
তন্দ্রা শিস্ট শৎকারে তাড়াই, 
জয়যুন্ত খেদের নিখিলে 
বিধাতার গৌরব বাড়াই। 
দুরাশার তিন্ত মহাফলে 
মৃৎসন্ততি মাতে দলে দলে__ 
এর তৃপ্তি, তাই বিলক্ষণ। 
তত ক্ষণ তৃষ্কাস্ফীত আঁম, 
সর্বেপর্বা নাস্তির প্রণামন 
না যোগায় সত্তা যত ক্ষণ॥ 


- পোল, ভালোর 


৮৮ 


বাতায়ন 


মৃতকল্প বৃদ্ধ যেন বকধর্মে হঠাৎ বিরূপ : 
আতন্ঠ আতুরালয়ে, চেয়ে দেখে রিন্ত চূর্ণলেপে 
[ভাত্তপাল বিগ্রহের নিরাগ্রহ; আনর্বাণ ধৃপ 
জাগায় বিমুখ গাঁত আজ তার পঙ্গু পদক্ষেপে ॥ 


শাটত শরীরে রৌদ্র পোয়াতে সে দাঁড়ায় না এসে 
কাচের কবাটে; শীর্ণ শৃভ্রকেশ, তাকায় কেবল 
বাহরে, পাষাণ যেথা 'হরণ্ময় সূ্ের প্রবেশে, 
এবং 'বাঁক্ষপ্ত বম্বে বাতায়ন পর্যন্ত 'পঙ্গল ॥ 


জবরে দগ্ধ ওজ্ঠাধরে আকাশের ইন্দ্রনীল ক্ষুধা, 
সে ক্রিনন চুম্বন আঁকে গবাক্ষের কবোঞ্চ কনকে, 
একদা যৌবনে যথা খঃজেছিল অনাবল সুধা 
লালায়ত তার মুখ প্রাণাধক কুমারীর ত্বকে॥ 


মাদকে সে উজ্জীবত, আচরাং ভোলে বিভীষকা- 
আরতির ঘৃত, ঘাঁড়, রোগশয্যা, কাস ও পাঁচন; 
সন্ধ্যার শোঁণতে স্নাত নগরীর যত অট্রালকা 
পোঁরয়ে, আলোর ভারে থেমে যায় দিগন্তে নয়ন॥ 


সেখানে নদীর জলে সুরাভির বেগুনী উচ্ছৰাস ; 
মরালপংন্তির মতো আভরাম হৈম নৌবহর, 

স্বপ্নে দুলে দুলে, সাধে বন্রু সীমারেখার সমাস; 
বলায় স্বরাট্‌ স্মৃতি আলস্যের প্রকাণ্ড প্রহর ॥ 


৮৭ 


প্রান্ত মমূর্ষ আম, রূপ্ণ দেহে বিতৃষ্কার বিষ; 
অসাড় আমার আত্মা সংসারীর পঙ্কমূল সুখে; 
উদরপজার পরে যোগাই না উদ্বৃত্ত পুরীঁষ 

স্তন্যজীবী সন্তৃতির অন্নজীবী জননীর মুখে ॥ 


দিনগত পাপক্ষয়ে নত্য করি পৃজ্ঠপ্রদর্শন : 
শাশরানাষস্ত কাচে অহনার চম্পক অঙ্গুীল, 
আঁশস্‌ জানিয়ে, লেখে অসীমের ইন্ট নিমল্রণ 


নিজেকে দেবতা-রূপে চান আমি সে-মায়ামুকুরে 
হোক কলাকোৌশলে বা মন্বলে, ম'রে, বেচে উঠি, 
আকাশকুস্‌মে গাঁথ জয়মাল্য, অবারিত দূরে, 
মাধূর্ের জন্মভূমি যেখানে, সেপ্রত্ব তঁর্থে ছুটি ॥ 


কিন্তু সর্বেসর্বা, হায়, ইহলোকই। তার গৈবা হানা 
এ-নিশ্চন্ত আশ্রয়েও থেকে থেকে ধরায় অর্াচ : 
নীলমানিবদ্ধ চোখে অধরার নিশ্চিত ঠিকানা, 

পাশব উদ্‌গার নাকে, মর্তলোক দুর্গন্ধে অশুঁচি॥ 


হা, রে তিন্ত আভমান, সত্যই কি সম্ভব নস্তার_ 
ণপশ্যচলাঞ্কত ব'লে, কৈলাসের আক্তিত্ব না রাখা, 
অফুরন্ত অধঃপাতে মাপা মহাশুন্যের বস্তার, 
নাখল নাঁস্ততে ওড়া, মেলে পৃঙ্খাবরাহত পাখা 2 


_-স্তেফান মালার্মে 


৯০ 


উজ্জীবন 


অসুস্থ বসন্তে আজ বিতাঁড়ত খনন নির্বাসনে : 
জ্‌ন্ভণে আলস্য ভাঙে ক্রেব্য পুন সন্তার গহনে, 
যেখানে নির্বাহকর্তা শোকাবহ আমার শোঁণিত॥ 


ধাতব চৈত্যের মতো, করোটির অবরোধে যেন 
সহসা প্রবেশ করে ঈষদুষ্ণ ধবল প্রত্যু্ষ; 
স্বপ্নসন্দরীর ডাকে নিরুদ্দেশ বষাদে পৌরুষ) 
[বিপুল বাীর্ষের হর্ষে চমৎকৃত অপর্ণ উদ্যানও ॥ 


পাদপের গন্ধোচ্ছবাসে অনন্তর 'বিশ্রান্ত, ব্যাকুল, 
শন্পে মেলে দিই দেহ কল্পনার সমাধপত্তনে, 
দাঁতে কাঁটি তপ্ত মাটি, ভূ"ই চাঁপা যেখানে প্রতুল, 


সর্বনাশে ডুবে যাই নিবেদের পুনরুনয়নে... 
সম্বদ্ধ গুল্মের উধের্ব ইতিমধ্যে শুন্য প্রভাস্বর, 
[বহঙ্গবিকচ রোদু নীলমার হাসিতে মুখর ॥ 

_- স্তেফান্‌ মালার্মে 


৭১৯ 


উৎকণ্ঠা 


সমগ্র জাতির পাপ সংক্রান্ত যে-জান্তব শরীরে, 
তার নৈশ বাঁলদানে আজ আম নই উপনীত; 
জাগাবে না ক্ষুব্ধ ঝড় অপাঁবন্র কেশের গভীরে 
আমার চুম্বন, যাতে দুরারোগ্য নর্বেদ নাহত॥ 


অসন্তাপ প্রাবরণে নির্বাণের শান্ত অবরোহ। 
ফুরালে মিথ্যার পালা, রক্ষা পাও. তুমি যে-অয়নে, 
নিত্য সে-নিখিল নাস্তি; তার পাশে মৃত্যুও সম্মোহ॥ 


আমিও, তোমার মতো, আঁভিগ্রস্ত ব্যাপক কলুষে, 
অনুর্বর, বীতস্বত্ব সৌজাত্যের মৌল মর্যাদায়; 
পাষাণহৃদয় তুমি পক্ষান্তরে যেহেতু স্বেচ্ছায়, 


অক্ষত তোমার বক্ষ তাই অপরাধের অঙ্কুশে। 
আর আম পরাজিত, প্রেতভয়ে পাণ্ড্‌, দ্রুতপদ, 
ঘুমাতে পাঁর না একা, ভাব শয্যা শবের প্রচ্ছদ ॥ 


_- স্তেফান, মালামে 


৪১ 


নীলিমা 


নিরপেক্ষ নীলমার 'নার্বকার, 'নর্মল বিদ্রুপ, 
মদালস পুষ্প যেন, সাংঘাতিক সৌন্দর্য ছড়ায় : 
অনর্থক "বিড়ম্বনা অভিশস্ত প্রীতিভার যূপ, 

যন্্রণার মরুূপথে আম কাব ছুটি নিরুপায় ॥ 


ছুটি নিমীলিত নেত্রে; তবু বেধে নিম্কবচ বুকে 
লক্ষ্যভেদী দৃম্টি তার, রুদ্র অনুশোচনার মতো। 
কোথায় লুকাব এই 'নদারুণ অবজ্ঞার মুখে, 

কই তম, অন্ধ তম, পূঞ্জ পুঞ্জ, সমু, বিতত ? 


মাথা তোলো, কুঙ্ঝাঁটকা; মেলো শৃন্যে মালন চীবর; 
করো, পাঁরকণীর্ণ করো বিরঞ্জন বিভতির কণা : 

ডুবুক সে-পাংশুস্তূপে হেমন্তের রসস্থ প্রান্তর; 
আঁচরে সমাধা হোক নৈঃশব্দ্যের মণ্ডপ-রচনা ॥ 


বৈতরণণী পঙ্ক ছেড়ে, উঠে এসো তুমিও, নিবেদি; 
দু হাতে কুড়িয়ে আনো বর্ণচোরা শৈবাল, কর্দম : 
শতচ্ছিদ্র নভস্তলে লেপে দাও স্তরে স্তরে ক্লেদ, 
পায় না প্রবেশপথ আর যাতে দজ্ট বিহঙ্গম | 


পুনর্বার লুস্তপ্রায় বাষ্পোচ্ছবাসে বষগ্ন সরণী; 
কঙ্জলীর কারাগার 'দাগ্বিজয়ে বদ্ধপাঁরকর ; 
বীভংসের অবরোধে ্য়মাণ পীত দিনমণি; 
আসন্ন অনাদ অমা; নির্বাঁপত নক্ষত্রানকর ॥ 


৯৩) 


ম'রে গেছে মহাকাশ। চাই আমি তোমাতে আশ্রয় ; 
আমাকে ভোলাও, জড়, নি্করুণ আদর্শ ও পাপ। 
যে-গন্ডলিকার স্রোতে মানুষের আত্মপারিচয় 

নাশ্চহ, পাতুক তাতে শেষ শয্যা আমার সন্তাপ॥ 


কারণ প্রাচীরমূলে অধোমুখ বর্ণ ভান্ড-বৎ, 
নারন্ত আমার মর্ম; অন্তর্যামী আর রূপে, রসে 
সাজাবে না কোনও দিন কন্দসীর মৌন মনোরথ; 
তাই খাঁজ 'বস্মরণ মরণের জৃম্ভত রহসে॥ 


বৃথা অব্যাহাতিভিক্ষা। নীলিমাই আবার বিজয়ী; 
উন্মখর তারই মল্ত মান্দিরের জীবন্ত ঘণ্টায়; 
কানে কাংস্য প্রাতধবান; অসূর্ধের স্াস্নগ্ধ মাভৈ 
অন্তারত অকস্মাৎ হৃদয়ের "ক্ষিপ্ত উৎকণ্ঠায় ॥ 


কুয়াশার অন্তরালে চক্রবতাঁ+ প্রাগোতিহাঁসিক, 

সে মাপে আমার মৌল বাবান্তর কণ্টকিত সামা । 

কোথায় পালিয়ে বাঁচি ঃ বিদ্রোহ কি সব বাতিক 2 

নীলিমানমগ্ন আম; চতুীর্দকে নীলিমা, নীলিমা ॥ 
_-স্তেফান মালার্মে 


৭৪ 


সমুদ্রসমীর 


দেহ দুঃখময়, হায়! সব শাস্ত করোছি নিঃশেষ। 
উড়ে যাওয়া বহু দরে! জান মহাকাশের আবেশ, 
সন্ধুর অচেনা ফেনা আস্ত ব'লে বলাকা মাতাল! 
[কিছু নেই : যেমন প্রাচীন কুঞ্জ, চোখের দুলাল, 
আমার সমূদ্রমগ্ন হৃদয়ের উদ্ধারে অক্ষম, 
হে শর্বরী, বিস্ত কাগজের শুরু স্বগত সংযম 
বাবন্ত প্রদীপে, তথা স্তন্যদায়ী ষুবতাীঁ তেমনই! 
প্রস্থানে প্রস্তুত আম! দোলা লাগে মাস্তুলে; তরণী, 
উঠাও নোঙ্গর, চলো পরকীয়া প্রকীতির খোঁজে! 
[নর্বেদ যাঁদও নিঃস্ব, প্রত্যাশার দশচকে ম'জে, 
রুমালী বিদায়ে তার আস্থা তবু হয়ান নির্মূল! 
এবং ঝড়কে ডাকে জাতিস্মর ওই যে মাস্তুল, 
হাওয়ার দমক ওকে হয়তো বা নোয়াবে আবার 
সে-অগাধে, যার কোলে বানচাল নৌকার কাতার, 
মাস্তুল ঘুচিয়ে, আসে, ভোলে কামদ্বপের প্রশ্রয়... 
কিন্ত নাঁবকের গান কী মধুর সেখানে, হৃদয়! 
_স্তেফান্‌ মালামে 


৯৫ 


ফনের 'দবাস্বগ্ন 
ওই অপ্সরারা, মন চায় ওদের রায় দিতে ॥ 


কী স্বচ্ছ ওদের কান্তি, আবহের পুঞ্জত গ্লানিতে 
ভাসে যেন উর্ণাজাল॥ 


ভালোবেসোৌছলুম তবে কি 
স্বপ্নকেই ? 


প্রত প্রান্তন রান, সাঙ্গপ্রায়, দেখি, 
সূক্ষন শাখা-প্রশাখায়, অবশিষ্ট বাস্তব বনানী 
জানায় নির্জনে যাকে জয়শ্্রীর অর্থয ব'লে মানি, 
তার আখ্যা অনুরাগ গোলাপের স্বভাবদোষেই ॥ 


সে-বরকিশোরীদের পাঁরচয় এই 
হয় যাঁদ যে তারা তোমারই হীন্দ্রয়ের অভিজ্ঞান 
পাঁরণত সচিত্র পুরাণে! বোৌনর্গত ওই ধ্যান 
আপাতক্কুমারী প্রথমার, সাশ্রু নির্ঝরের মতো, 
ইন্দ্রনীল, হিম নেত্র থেকে : পক্ষান্তরে ক্রমাগত 
দীর্ঘশবাসে দ্বিতীয়া কি স্মরণে আনে না দ্বিপ্রহরে 
উত্তপ্ত হাওয়ার স্পর্শ রোমশ শরীরে! কিন্তু জবরে 
মূ্হাপন্ন স্নিগ্ধ অহনার পরাবতাঁঁ চেতনাকে 
পিষে পিষে মারে যে-নিস্তব্ধ অবসাদ, সে-বিপাকে 
আমার বাঁশই শুদ্ক কুঞ্জে দ্রব সুর ঢালে; আর 
একমান্র বায়ু রেখারিন্ত চক্রবালে প্রেরণার 
প্রকট, কপট, শান্ত প্রাণ, যা আমার বেণুরবে 

৯১৬. 


প্রত্যুৎপন্ন, পাঁরকীর্ণ নির্জলা বৃম্টিতে, তথা নভে 


অধুনা পুনরারুঢ় ॥ 
[সাসালর নিস্তরঙ্গ হুদ, 
যার তটে তটে আম সাঁবতার প্রাতযোগী মদ 


ধর্ষণে করোছ ব্যয়, হতবাক্‌ তুম বিকাঁসত 
স্ফলঙ্গের নিচে, বলো, “এখানেই ছিলুম ব্যাপৃত 
“আম প্রাতিভাপাঁলত, ফাঁপা নল কাটার, যখন 
“দূরের শ্যামল উৎসে সমাপপত দ্রাক্ষার হরণ 
“জন্তুনিভ শুভ্রতার আবচল ডীর্মতে উতলা 
“হয়োছল আচাম্বিতে : কিন্তু যেই বাঁশরীর গলা 
“ফুটোছল 'িলাম্বিত আলাপে, অমনই পাখসাটে 
“মরালের ঝাঁক শূন্যে মিশে গিয়েছিল, না বিরাটে 
“ঞলকনাকারা ফিরেছিল ডুব সাঁতারেই...৮ 


জলে 
জড়জগৎ প্রখর প্রহরের তাম্্ তাপে : স্থলে, 
জলে, অন্তরীক্ষে অপর্যাপ্ত সেই কোমার্যের লেশ 
নেই, এমনাক নেই শিজ্পসার সে-ষড়ুজের রেশ, 
যার অনুসম্ধানেই পলাতকাদের রূপকার 
হাঁরয়ে ফেলেছে আজ; আদ উন্মাদনায় আবার 
নিজেকে জাগিয়ে তবে, পুরাতন আলোকের বানে 
দাঁড়াব একেলা, খাজ, হে পাঁদমনী, অপাপের ভানে 


তোমাদের ই অন্যতম ॥ 


যে-মুক চুম্বনে থেমে যায় 
অনূলাপাী অধরের প্রলাপরটনা, স্বস্তি পায় 
৭ (৮৯) ৯৫ 


বিশবাসহল্ীরা, ততোঁধক রহস্যানগড ক্ষত- 
অর্নত্য দন্তের সাক্ষ্য-অথচ আমার অনাহত 
বক্ষে স্বাক্ষরিত; কিন্তু থাক বাক্যব্যয়! সমদার 
যুগল বেতসই শুধু হেন মন্ধ্গুপ্তির আধার : 
বিবিক্তির মর্মবাণী, পাঁরণত তারই দীর্ঘ সুরে, 
নীঁলিমাকে স্বধর্ম ভোলায়; প্রাতিবেশে যায় ঘুরে 
রুূপসার মাথা, আত্মগত সঙ্গীতের নায়কা সে 
ভাবে আপনাকে, যাঁদও প্রকৃতপক্ষে, প্রাতিভাসে 
প্রত্যক্ষ উরুর কিংবা পৃজ্ঠাঁদর রূপান্তর করে, 
বশ্রম্ভের অস্থায়ী-অন্তরা যেমন অমর ম'রে, 
তাকে মেনে সার্থক তেমনই একতাল ওঙকারের 
প্রাতধবানিপ্রহত অভাব॥ 


তবে ফুটে ওঠো ফের, 
হে যন্দ্রস্থ পলায়ন, পিশুন সাঁরংস, পুনরায় 
স্কূততির প্রয়াস পাও ইতস্তত বিতত জলায়, 
যেথা তুমি আমারই প্রতীক্ষা-রত! আমি জনরবে 
অলাজ্জত, কাটাব অমেয় কাল দেবীদের স্তবে ; 
কৃতবিদ্য প্রাতমাপূজায়, একাধিক বৈদেহশীর 
মেখলা খসাব : যেমন সন্তাপ ভূলে আমাদর 
বিবতবাদেই, আঙুরের শোষতপ্রসাদ ত্বকে 
ফুংকার ভরোছ, এবং প্রচুর হেসে, অপলকে, 
মাতাল তৃষ্ণায়, সারা বেলা তাঁকয়ে থেকোছ, তুলে 
ধ'রে মহাকাশে ভাস্বর নমোক॥ 


স্মৃতির পৃতুলে 
এসো, হে অগ্সরীবৃন্দ, প্রাণবায়ু ফকি। “নলবন 
“চরে চিরে, আমার চাহান বধেছিল অতুলন 


“তাদের গ্রীবায়, যার জবালানবারণে দিগ্বধূর 
“দল ঝাঁপ দিয়োছল লহরাীতে, ননার্লস্ত, নিষ্ঠুর 
“শূন্যে আরণ্যক আর্তনাদ হেনে; এবং আঁচরে 
“কুন্তলের মুন্ত ধারা হাীরকের মাঁথত মার্মরে 
“বিভাব হাঁরয়েছিল! আমি ছুটেছিলুম সে-দকে; 
“কিন্তু পা, উচট লেগে, থেমেছিল যেখানে, সখীকে 
“বাহুক্ষেপে বেধে, সখা (সম্ভাবত অনেক্যে আহত) 
“অঘোরে ঘ্যাময়েছিল। আনান বিয়োগ করগত 
“সে-অদ্বৈতে; ছায়াঁবড়ম্বত এই গোলাপাঁবতানে 
“নয়ে এসোছলুম তাদের, যাতে ীদনেশের টানে 
“বীতগন্ধ ফুলের মতোই, আমাদের উচ্ছবাসত 
“রাতপারমল উবে যায় দিবাশেষে ।” বলাৎংকৃত 
কুম।রীর ক্রোধ, উলাঙ্গনশ উন্মত্ত রভসে শু, 
পিপাতত অধরের তপ্ত স্পর্শে যেন বররুচি 
বিদঢুতের সখালত বিলাস, ভালোবাস, ভালোবাস 
আম আও৩ঙ্কের সংবাতি শরীরে -হোক তা উদাসী 
প্রথমার পদান্তে বা দ্িতীয়ার দুরুদুরু বুকে : 
উভয়ে সমান ভারা নম্ট অনাভজ্ঞার অসুখে, 
একজন আত্মহারা যাঁদচ ক্রন্দনে ও অপরে 
মাত্র বাম্পাকুল। “আমার মহাপরাধ, দৈব বরে 
“যে-চুম্বন একাকার তথা আলুথালু, জয়োল্লাসে__ 
“যেহেতু তাদের ভয় ভেঙেছিল আমারই প্রয়াসে 
“সে-সহযোগের জোট আম চেয়েছিলুম ছাড়াতে । 
“কারণ উদ্দীপ্তকাম জ্যেত্ঠার সংক্লাম কাঁনচ্তাতে 
“দেখা দূরে থাক, অগ্রবার্তনীর গভীর আহনাদে 
“যেই নিবাতে গেলুম আমার দীপক হাঁসি, সাধে 
“আর সাধ্যে তৎক্ষণাৎ বিবাদ বাধাল বিধি : শ্বেত 
“পালকের মতো অলঙজ্জ, সরল অনুজা সঙ্কেত 
“থেকে পলাল সে-সৃযোগে, আমার অঙ্গাল ছিনিয়ে; 
«সঙ্গে সঙ্গে, গদগদ নর্বন্ধে কান পযন্ত না দিয়ে, 
৯৯ 


“কৃতঘ! শকার খণ্ডাল শাথিল কণ্ঠাশ্লেষ ॥” 


যাক 
যা যাবার; অনাগত সুন্দরীরা ভরাবে এ-ফাঁক, 
জঁড়য়ে আমার শৃঙ্গে কেশপাশ, আরামে তরাবে : 
স্বসমুথথ আদিরসে আলদের মুখর করাবে 

আমার বাসনা_স্ফুট, নীলারুণ, সুপক্ষ ডাঁলম; 
এবং যে-পরিপ্লতি আমাদের শিরায় রক্তিম, 

তার নিত্য 'নার্বশেষে ধার্য নয় কে বসন্তসেনা। 
কৃঞ্জকে ছোপায় যবে ধূসরিত গোধূলির হেনা, 
তোমার উৎসব, এট্‌না, নির্বাপিত পাতায় পাতায় 
অন্তাঁরত হয় সে-সময়ে, আসে অমায়িক পায়ে 
স্বয়ং ভঁনাস, পেরিয়ে লাভার প্রস্থ, অকস্মাৎ 
নীরবের বজনাদে ঘটে খনন বাহুর নিপাত । 

ধার ভূজে অপ্সরীরাজ্ঞীকে ॥ 


হা, শাস্তি অনপনেয়... 


কিন্তু বাক্যবিমুস্ত হৃদয়, তথা গুরুভার দেহ, 

হার শানে শেষে মধ্যাহের উদ্ধত মৌনের কাছে : 
আর নয় দেবানন্দা; স্মরণের আনাচে কানাচে 

তন্দ্রা জমে; পাতি শয্যা তবে রুক্ষ বালুতে এ-বার, 
এবং সূরার জল্মপন্লে যে-গ্রহ প্রবল, তার 


নিচে শুই, যথারীতি মুখ খুলে! 


যমলা, বিদায়! 
আমাকে সে-্ছায়া ডাকে, তোমাদের লুপ্ত যে-ীদ্বধায় ! 
_-স্তেফান মালার্মে 


১০০ 


জভাব্য 


অধছাগ, অর্ধদেবতা, রোমক পুরাণের ফন্‌, ভারতীয় কিন্নরদের মতোই, 
সঙ্গীতবিলাসী। কিন্তু তারা গায়ক নয়, বেণুবাদক; এবং হয়তো তাই, 
যেমন আমাদের মুরলীধর, তারাও তেমনই লাম্পট্যের প্রাতমূর্তি। 
কারণ তাদের অগ্রনায়ক প্যান-এর অনুধাবন থেকে বাঁচার অন্য পথ না 
পেয়ে, সারংসনামক অপ্সরী একদা বেতসের রূপ ধরেছিল; এবং উন্ত 
নলেই ফন্‌-সম্রাটের প্রথম বাঁশ 'নাম্তি। অবশ্য মালার্মের মৃত্যু 
মনোবকলনের প্রাগ্ৰতরঁ। তাহলেও অলোকসামান্য অন_ব্যবসায়ের 
আশীর্বাদে তান প্রায় এক শতাব্দী আগে--যখন তাঁর বয়স ছিল 
পণচশের নিচে, তখন-_ অনুমান করেছিলেন যে সোন্দর্যবোধ বিরংসার 
উদগাতিমান্র; এবং সেই জন্যে ফন্‌-এর 'দিবাস্বপ্নে প্রত্যক্ষ উরু ও পজ্ঠ 
ধবানসর্বস্ব কাঁবতার একতাল ওঙকারে পাঁরণত। নন্দনতত্বের আর 
কোনও ব্যাখ্যায় আস্থা রাখলে, শোঁষত আঙরের 'নর্মোকে ফুৎকার 
ভ'রে, সারা দিন সে-ভাস্বর গুচ্ছের দিকে তাকিয়ে, তৃষ্ণানিবারণ তার 
সাধ্যে কুলত না; এবং বৌদ্ধ না হয়েও, সে কায়মনোবাক্যে মন্ময় শুন্যবাদ 
মেনে নিয়েছিল ব'লেই, সন্ধ্যার তন্দ্রাবেশেও তার আত্মশলাঘা ফ:রয়নি, 
তার সর্বশান্তমান অহংকারের আগ্নাগার ভনাসৃকে গ'ড়ে, আবার 
আপনার বজ্রনির্ঘেষ মৌনে তাঁলয়ে গিয়োছল। নায়কাষুগলের প্রসঙ্গেও 
অনুরূপ মন্তব্য সম্ভব; এবং পৃথক ভাবে তাদের মধ্যে বাঁশরী ও 
প্রেরণা, বেদনা ও ভাবনা, ইত্যাঁদর যোগাযোগ দোৌখ বা না দৌখ, প্রাকৃত 

অদ্বৈতের ব্যবচ্ছেদই নায়কের স্বীকৃত মহাপরাধ। 
পক্ষান্তরে মালার্মে প্রতীকী কাব্যের পুরোধা; এবং প্রতীকের 
সঙ্গে রূপকের প্রভেদ আকাশ-পাতালের চেয়েও বেশী । অর্থাৎ প্রতাঁক 
স্বতঃঁসদ্ধ রূপের কৈবল্য আর রূপক ময়্‌রপুচ্ছধারী দাঁড়কাক; এবং 
মালার্মে কবিতাকে রিন্তগর্ভ সঙ্গীতের মর্যাদা দিয়েই থামেনান, পাশ্চাত্য 
সঙ্গীতের বিশেষ বর্ণমালা কাব্যরচনায় অনুকরণীয় নয় ব'লে, তানি 
একাধক বার আক্ষেপ করোছিলেন। উপরন্তু 'তান জানতেন যে সম- 
সাময়কদের মধ্যে তিনিই একমাত্র শুদ্ধ কাব; এবং আজীবন তান 
যেহেতু অধ্যাপনার দ্বারা অগত্যা গ্রাসাচ্ছাদনের দাবি মিটিয়োছলেন, তাই 
১০১ 


বোধহয় লোকাঁশক্ষার নামে তাঁর গায়ে জবর আসত । অবশ্য গদ্য টাকায় 
কবিতার মর্মোদ্ঘাটন যে পাপের পরাকান্ঠা, এ-বিমবাস তাঁর নয়, তাঁর 
স্বনামধন্য শিষ্য ভালোরি-র। কিন্তু তাঁর কাব্য নিকামত রহস্যঘন; এবং 
সেই প্রাণস্বর্প রহস্যের রক্ষায় তাঁর জাঁটল চিন্রকল্প আঁবচ্ছেদ্য, তাঁর 
ভাষা ব্যঞ্জনামূলক শব্দের ধাতুগত প্রয়োগে দুরূহ, তাঁর আঁভপ্রায়, 
ব্যাকরণ মানলেও, অন্বয়ের শাসন-মৃত্ত। তৎসন্তেও মনে রাখা দরকার যে 
অন্তত প্রথম সংস্করণে “ফনৃএর 'দিবাস্বগ্ন” আবৃত্তির জন্যে লাখিত; 
এবং জনবদ্দশায় সে-সাধ পূরতে না পেরে, কাবি যাঁদও 'িনরন্তর সংশোধনে 
আঁভনেয় কাহননীকে শেষ পযন্তি ধেয় স্বগতোকন্তর পর্যায়ে তুলেছিলেন, 
তবু যে-বৈনাশিক এ-নাটকের মৃখ্য পান্ন, তার অনন্য নিভর ঘটনা- 
পরম্পরা, অথবা হীন্দ্িয়প্রত্যক্ষ-_ উজ্জ্বল ও অবশ্যস্বীকার্য হলেও, 
প্রতীক, যার ও-দকে আনশ্চয় আর এ-ঁদকে বেদনাপ্রভব কল্পনা । 

আমাদের প্রবেশ স্বভাবত 'নিাষদ্ধ; এবং তার হাব-ভাবে দ্বান্ট রেখে, 
তথা উত্তিতে কান পেতে, যত রকম বিবরণ লেখা সম্ভব, তার একটা 
এই : ফন্‌দের শ্রীক্ষেত্র সাঁসাল-র এক উপবনে একজন মধ্যবয়সী ফন, 
মধ্যাহ্নিদ্রায় বিভোর হয়ে, দেখাঁছল অপ্সরীধর্ষণের সুখস্বপ্ন; কিন্তু 
দিনের তাপ বাড়তে, সে আর ঘুমতে পারলে না; এবং জাগতেই, তার 
চক্ষে পড়ল শুন্য কুর্জের বাস্তব ডাল-পালা। তখন যদিও না মেনে 
উপায় রইল না যে তন্দ্রা আসার আগে পাঁরপার্টিক গোলাপের গন্ধ তার 
মানসে যে-আমোদ জাগিয়েছিল, তাতেই ফুটে উঠোঁছল স্বপ্নাদ্য বর- 
মালে আকাশকুসূম, তব্‌ কল্পনাবলাসকে একেবারে অসার বলতে তার 
আত্মরাততে বাধল; এবং ফলে, উতপ্রেক্ষার চরমে পেসছে, সে ভাবতে 
চাইলে যে নিকটে কোনও নির্ঝরের শব্দ, বা শরীরে হাওয়ার তপ্ত স্পর্শ, 
নাঁয়কাযুগলকে মনে আনোন, বরণ তাদের ভাবানূষঞ্গেই জলকল্লোল 
ও বায়ীহল্োলের উৎপীাত্ত। কিন্ত এব*বাসও "কল না-আবার চোখ 
মেলতেই, বোঝা গেল যে, সন্দরীদ্বয় দরে থাক, তার প্রাতিবেশে জল- 
হাওয়ার চিহও নেই, রুক্ষ নাস্তিতে অভিব্যাপ্ত শুধু বাঁশর দ্বব সুর 
আর বাদকের দিব্য প্রেরণা, যা, কামিনী কেন, অপ্‌ ও মরুতের মতো 
আদিভূতেরও উদ্ভাবক । এমনকি, অমায়ক 1জনে, দিগন্তের রৌদ্রবকচ 


১০৭ 


হদে তাকাতেও, ভেসে উঠল কেবল আঁভিজ্ঞান; এবং সঙ্গে সঙ্গে অতলে 
তলাল সত্য-মথ্যার ব্যাবহারক ব্যাবর্ত। 

কারণ সে যেমন না মেনে পারলে না যে সে আদ্যন্ত একা, তেমনই 
বুকে দংশনের দাগকেও তার অস্বীকার্য ঠেকল; এবং তার পরে সে 
বুঝলে যে উভয় উপলাব্ধ কার্যকারণের সূত্রে সম্বদ্ধ। অর্থাং শল্প- 
সামগ্রী হীন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার নৈর্বান্তক আভব্যান্ত; এবং যে-ীনর্মম 
অনুপ্রাণনায় রূপকারমান্রেই নিঃস্ব, তাতে সম্ভবত প্যান-প্রপীড়ত 
সারংসৃ-এর অবরোহাী অভিসম্পাত সব্রিয়। কিন্তু প্রকীতির পাঁরহাস 
এমনই নিম্চুর যে উত্ত আত্মবাঁলদানের দুঃখ প্রাতীহংসাপরায়ণ 'সারংস্‌- 
কেই নিবেদ্য; এবং হয়তো তাই, মুখে মাইডাস্‌-এর নাম না আনলেও, 
নায়ক ইঙ্গিতে সে-হতভাগ্যের উল্লেখ করেছে। অবশ্য ফ্রাজয়া-রাজ, 
প্যান্-আ্যাপলো-র সঙ্গীতপ্রতিযোগে প্রথমের প্রাত পক্ষপাত দেখিয়ে, 
শেষোক্তের শাপে যে লম্বকর্ণ হয়েছিলেন, তা তিনি নিজে রটাননি; এবং 
তাঁর নাপিত সে-কথা শ্যানয়েছিল কেবল মাঁটিকে.। কিন্তু যত্রে বোজানো 
গর্তে ফুটে উঠেছিল বেতস; এবং হাওয়ার দৌত্যে রাজার লঙ্জা পেশছে- 
ছিল প্রজার কানে। অতএব লোকাপবাদখণ্ডনের ব্যর্থ চেষ্টায় সময় না 
কাটিয়ে, ফন্‌ অতঃপর মন দিলে মানসণদের প্রকাশ্য বস্তহরণে; এবং 
যখন বলাৎকারের সুযোগ এল, তখনও সে ?শকারসমেৎ বনান্তরালে 
লুকল না, সাক্ষী ডাকলে দ্বপ্রহরের সূর্যকে । সেই অবৈকল্য সত্তেও, 
চূড়ান্ত সাঁদ্ধ কেন তার ভাগ্যে জুটল না, সে-প্রশ্নের উত্তর সে আপনার 
মধ্যেই পেলে; এবং মহাপাতকের প্রায়শ্চ্তকল্পে যে-সোহংবাদে শেষ 
পর্যন্ত সে চোখ বুজলে, তার ভাষ্য লিখে গেছেন শঙকরাচার্য। 

অবশ্য অদ্বৈতবাদে মালার্মের গুরু শঙ্কর নন, হেগেল্‌। কিন্তু 
অনেকে যেমন ভাবেন যে শঙকর প্রচ্ছন্ন বৈনাশিক, তৈমনই হেগেল্‌-এর 
বিচারে বিশুদ্ধ সত্তা আর ননার্ককার নাস্তি তুল্যমূল্য: এবং তাঁর শিষ্য 
মালার্মের কাছেও তাই একার্ষর হরণ্ময় পানর মোহময়। তবে কোচে-ও 
হেগেল্‌-পল্থীঁ; এবং তিনি ভাব ও ভাষার প্রভেদ মানেনান। সতরাং 
“ফনৃএর দিবাস্বপ্ন”-এ ঈশোপনিষদের রহস্যারোপ হাস্যকর: এবং 
হয়তো তার চেয়েও বেশন পণ্ড শ্রম উন্ত ফরাসী কবিতার বঙ্গানুবাদ । 
কারণ কাব হিসাবে মালার্মে শুধু 'বাভন্ন, এমনকি বিপরীত, আবেগের 


১০৩ 


আম্্রবণ, অথবা অসমোঁসস্‌, ঘটিয়েই ক্ষান্ত নন, তাঁর নিরবাচ্ছন্ন চিন্র- 
কল্প যে-রকম বহলাঙ্গ বাক্যের মুখাপেক্ষী, তার অনুকরণ স্বভাব- 
গ্রন্থ বাংলায় একেবারে অসম্ভব; এবং স্বয়ং অলডাস্‌ হাক্সাল 
বর্তমান কবিতার ইংরেজী তজর্মায় পাঁরবজ্ন ও পাঁরবর্তন- এ-দঃটো 
দোষের কোনওট্র এড়িয়ে যেতে পারেননি । অবশ্য রজার ফ্রাই-এর অনুবাদ 
আক্ষারক। কিন্তু শাল মোর*-র টীকা-ব্যাতিরেকে তা প্রায় অবোধ্য; এবং 
মোর আর মালার্মের শ্রেচ্চ জীবনীকার আঁর মণ্দর-এর মধ্যে একমান্র 
যোগসত্র বোধহয় অবিমিশ্র সমালোচনার প্রবর্তক আলবের তিবোদে-র 
পৃজ্ঞপোষক। পক্ষান্তরে, প্রতীক ব'লেই, মালার্মের কাব্য-সম্পর্কে নানা 
মূনির নানা মত আনবার্য: এবং তিনি কার্যতও দৌঁখয়ে গেছেন যে কবির 
সঙ্গে যে-ফুলের কারবার, তার বর্ণ নেই, গন্ধ নেই, আকার নেই, আছে 
কেবল প্লেটো-পারকাল্পত রূপ । 


১০৪ 


00101) 1১156110]0 


[100৮০ 5০0ো। 05৮1) 0110 57111561001) 11190752110. ৮5110 1)1115 (1১057000) 
15/11101)0 1015, 2100 005 গ্রিট চ৮9০90১ 2০ 0111), 2110. 0110 30015 0 
2100 051] (111180)10) 
1). 11. 101১001166 
117) [10110 01 0170 ১01)01)16 11008111071, 19117051951 111)1)01) 01 19110190৮ 
(0017 1110 1321001)) 
€. 11010 
279 2১15, +1109৮1 19955 000 177001)৮1? (/)0175 01910100101) 
ডড111177)) 91)1561১০০76 
110 /1]1 1)০110৮0 111% 5৫1৫ 11) 11110 009 00110 (১0170 ১৮11) 
91)4111] 001))]0)4)0 01100 (0 2. 58110110107 059 (901)1)6 ৬11) 
1)6৮০101)0 117100, 1)1071 01000 0100 11017151995 (১011101 ১) 
১০ 15 10 1001 ৮111) 110 75 ৮৬101) [11401701150 (১011101১৩১1) 
[৬9 314১ 91101] 1001 19১71500000 [ 2], 010 (১০120 ১11) 
৬৮৫2] %$11]) 0011, 11075001010 00 77৬ 1900. (১010101 ১১৯৮৬]) 
110 111 015127100 ৮111) 10011771710 2100 111010১0৮০১ (১0111701 ৯1১) 
$৬1011 (0 1110 505310115 01 5/০1 ৯110111 [16)710111 (১0101701১৬৩) 
117) 1০0০0] 15 0170105700 ৮৮111) ৭11 1709115 (90181100 ৯৩৯) 
11111 00010) 7 0101010815 11)01101100 10550 1 ১৫011 (50101001 ৯1) 
$৬1)/ 01051 11101 1)011)1১0 ২701) 1১07110000৯ 02৮ (১০11101 ১১৯১৬) 
17110 75 0116 ৬৭৮০5 1101]0 [05৮01051110 1)01)1)1001 91)0910 (9011170 ],১৩) 
9 101)00 10011)7]) 16001 0000 ৮৮100101210) 01020 (১০701700157) 
11770101770 01 ৮০০) 01707] 171205117 1710 1)017010 (১0111161111) 
1007 1)0 60101001000: দা)গো। 011101011 01165. (5017110101৮) 
€)] 1 51171] 11৮6 5০0] 01১112])]1) 109 11090 (9011110 1,0) 
11791710410 200 55100107090 ৮৮110 11 ০৮৫51705৮ (5017110 20) 
[01700 191] 1[010া0, 9০9৮ 1)0৮চো 0নাঠ 1) 010 (১011110 €7৬) 
91 101110 0৮৬11 10015, 1101 1016 1১101)170110 ১০৪] (59111706 0৬] 
7110 05190105001 ০৭131111110 2 ৮7500 01 ৭1)711010 (১০11)00 075) 
1১1 11115070551 ০৮০৭ 210 11011711710 11170 0110 ৪111 (501117010০০) 
$11011 110 1050 ১৮০৭1511410 510 1৭ 11700 01 (11101) (১0111100 0৮711) 
1,001 ৪০1, 1110 001106 0)6 110% ৭11)101 00111) (5010100 ০০১৯1,৬]) 
11011)1101) 11611)0 
$11 50১১০] 21 1115011071010150 (1016 110117710100, ৬11) 
১0171750010 11101111770] 01170 11101100101) 17101) (10015110117) 
17 500170]1 1010111, 025 4৮001910100) (0011011101115) 
1171 010 201] ১101 01101 ৮০5০1110011001 (15101211010) 
$/০]] 10. ৭০ 211/ ৮0170101161) 1)11170 (ড৬৭110০6 11111) 
1)] (৮1151 11) 710110]) 41110011001) (1001 [001100141)158) 
10101 1 ৮০111:071)]1))0]1) 11101 01110116561 ৬০1 (01)৮0111-071110101)610) 


৯০৫ 


17161171101) 1761106 (00776872/60) 
স)10 001591)181119101)0-111) 50110171617190110 (৮1000150101) 
ড৬০11010701 15050) 11) 01011) [71011)61105111605 (10৭1000১008) 
4৯15 010 1910001২05৫ 1)101176 (0০৫01৭011005 ০100) 
7025 01190 10101) 01/100011 (100 501701061706 9011011001) 
15018077050 50001) 010 51101601106  901)1)0 (001১0552150 26100 
/1)061]1017, 59) 
[017 1)17) 10011 (01101000700101551ঠি 07171 911 (417 007711%) 
[)05 ড/০11)65 1011) 151 011) 09001001 (1025 17017101100) 
1701 01110 0০111106005 ৬2) (4৯005 00 19112140107 1) 
0০14111)0 1)101)01, 07১৭ 101) ৪0১ 1)0111017011610 (0:0111)00)76) 
)01191)]) ৮০1107010৮0] (0011) 
10৭5 7011) 4১012 00] 01১১০1)100 ১2০0৮ (1061 4১1১5070104) 
1) ৮০115551101) 01056 1701010 (1)10 ১০101107010) 
1১001 ৬০100 
1১]7711 11011010710 1)1১6 10106 (19)000]0 01817 5011১01)1) 
১৫1১1027110 1121100076৫ 
1.5 00. 071510 1)01)1071, 06 00 1'01100105 [৫1100 (05 17070105) 
1.0 1)11111010)])5 110011011 2 0109১5৫ 11150610100 (11015 0771) 
00170 10105 [925 0৫ ১০1] ৮0110101017) 009113১, 0 1)010 (০৮1)0০৯১০) 
1)6 116101100] 2900 12 ১০1:01106১ 1101110 (]718/010) 
[7 01191] 05012150065 0017৭101101 10 (0175 105 110০৯ (11১0 ১1৭111)0) 
0:৫5 1051111)1)05, 10 105 ৬৫0 [0১011১01001 (14১])70-81101 01007 15000000)